এবার কলেজে শিক্ষার্থীর জন্য হাহাকার, যে ১০ কলেজে সর্বোচ্চ আবেদন
· Prothom Alo
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অনেক কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী পেতে হাহাকার দশা শুরু হয়েছে। দেশের ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থীই আবেদন করেনি। আবার আবেদন করেও কোনো শিক্ষার্থী পায়নি ৪১৬টি কলেজ। এর বাইরে প্রায় ৮০০ কলেজ-মাদ্রাসায় এবার মাত্র ১ থেকে ১০ জনের মতো শিক্ষার্থী পেয়েছে। ফলে অনেক কলেজেই শিক্ষার্থীর সংকট দেখা দিয়েছে।
Visit turconews.click for more information.
তবে পরিচিত কিছু কলেজে ঠিকই ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। এসব কলেজে ভর্তি হতে আসনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আবেদন করেছে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে। কলেজটিতে একাদশ শ্রেণিতে ৯৮১টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩২ হাজার ৬৭৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আসনসংখ্যা অনুযায়ী ৯৮১ জনকে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠে সিলেটের মিরেরময়দান এলাকার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এই শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তি হবেআবেদনের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। কলেজটিতে ২ হাজার ৩৭৯টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩২ হাজার ৬৪০ জন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা সিটি কলেজে ৪ হাজার ২৮০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩১ হাজার ৯৫১ জন।
আবেদনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কলেজের তালিকায় আরও রয়েছে সরকারি বাঙলা কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ-ঢাকা, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও সরকারি তোলারাম কলেজ।
২,২০৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেও কলেজ পায়নি
এবার সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। অন্যদিকে, এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ফলে আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল, এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর সেই চিত্রই সামনে এসেছে।
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ১৮০টি। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পৌনে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি।
আবেদনের দিক থেকে সেরা ১০ কলেজ হলো ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজে, সরকারি বাঙলা কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ-ঢাকা, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও সরকারি তোলারাম কলেজ।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার মোট আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন। অর্থাৎ আবেদন করেও ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসন পায়নি ১৪ হাজার ৪১৫ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী রয়েছে ২ হাজার ২০৫ জন।
শিক্ষার্থী না পাওয়া কলেজগুলোর কী হবে
এবার ভর্তির জন্য কোনো আবেদন না পাওয়া ১১টি কলেজের মধ্যে ৯টিই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন। এর মধ্যে কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কাঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আগেই আবেদন করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান বাতিল করেছে।
কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরীন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে বছর দুয়েক আগে কলেজে পাঠদান বাতিল করা হয়েছে।’ তবে আবেদন করেও কোনো শিক্ষার্থী পায়নি ৪১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেমন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন ছিল ৪৫০টি। কিন্তু এসব আসনের বিপরীতে একজন শিক্ষার্থীও ভর্তির জন্য বরাদ্দ পায়নি।
শিক্ষার্থীরা এসএসসির ফলাফল মুঠোফোনে দেখছেআবার প্রায় ৮০০ কলেজ ও মাদ্রাসায় আসনের তুলনায় খুবই কমসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। যেমন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন বরগুনার আমতলীর টিয়াখালী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ৩০০টি। সেখানে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে মাত্র চার শিক্ষার্থী।
এসব কলেজের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, যেসব কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী পায়নি বা নগণ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পেয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে তথ্যগুলো মন্ত্রী ও সচিবের সামনে তুলে ধরে মতামত চাওয়া হবে। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যেভাবে ভর্তি, ক্লাস যখন
এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে।
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করেও কলেজ পায়নি বা আবেদন করতে পারেনি, তাদের জন্য আরেক দফায় সুযোগ দেওয়া হবেবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
প্রথম ধাপের ফলাফলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তিন দিন ভর্তির কাজ হবে। ভর্তির কাজ শেষ করে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করেও কলেজ পায়নি বা আবেদন করতে পারেনি, তাদের জন্য আরেক দফায় সুযোগ দেওয়া হবে। প্রথম ধাপের ভর্তি শেষে ক্লাস শুরু হওয়ার পর আরেক দফায় আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।