ছফার ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’–এ কী আছে
· Prothom Alo

কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক আহমদ ছফার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’। বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে দিনাজপুর বন্ধুসভা। ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মাঠে এই আসর বসে।
Visit albergomalica.it for more information.
‘পুষ্প, বৃক্ষ, এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ বইয়ে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে বিরাজমান এক অলৌকিক সম্পর্ক। লেখক নতুন বাসায় স্থানান্তর হওয়ার পর পুরোনো বাসায় ফেলে আসা গাছের প্রতি মায়া অনুভব করেন। নতুন বাসায় এসে পালিত পুত্রের খুঁজে আনা তুলসী ও নয়নতারার চারা থেকে শুরু করে আশপাশের প্রকৃতি নিয়ে গড়ে ওঠে লেখকের নতুন জীবন। তুলসী আর নয়নতারা যেন বাড়িরই ছেলে।
গাছপালা, মানবজাতি ও পাখিদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ফুটে উঠেছে প্রতিটি লাইনে। এ উপন্যাসে পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গরা ছফার পার্শ্বচরিত্র। কেননা সব কথা, ঘটনার বর্ণনা ও স্মৃতিচারণা ঘটেছে পুষ্প, বৃক্ষ ও বিহঙ্গদের ঘিরেই।
মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির যেন অনন্য সম্পর্ক। মানুষকে একদিন প্রকৃতির আশ্রয়ে আসতেই হয়। হয়তো বৃক্ষ সবার সঙ্গে কথা বলে। কেউ তার ভাষা শুনতে পায়; কিন্তু সবার সেই ক্ষমতা থাকে না।
ছফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারের মাঠজুড়ে চাষ করেন। বেগুন, বাঁধাকপিসহ হরেক রকম সবজি ফলান। রীতিমতো চাষার মতো যত্ন নিয়ে। তিনি ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্টার নাজিমউদ্দিন মোস্তানকে সঙ্গে নিয়ে বস্তির বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখান। খেতের প্রথম সবজি দিয়ে বাচ্চাদের তরকারি রান্না করে খাওয়ান। তাদের সেই আনন্দ ছফা কোনো দিন ভুলতে পারেন না। আরও অনেক কিছুই তিনি ভুলতে পারেন না।
সহসভাপতি দীপু রায় বলেন, ‘বন, পাখি আর প্রকৃতিকে যদি ভালো লাগে তাহলে এ বই প্রত্যেকের মনে জায়গা করে নেবে। যার প্রকৃতি নিয়ে কোনো ভাবনা নেই তাকেও প্রকৃতিপ্রেমী হতে শেখাবে।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন সিংহ, এইচ এম জাহিন নাওয়াজ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শুভজিৎ রায়, বন্ধু সজীব রায়, তাসনিম পৌষী, মোনায়েম নিয়নসহ অনেকে।
সাংগঠনিক সম্পাদক, দিনাজপুর বন্ধুসভা