শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের সিলগালা ডেক ও দানবাক্স খুলে মিলল ১৮ লাখ টাকা

· Prothom Alo

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক তিনটি ডেক আর নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্স খুলে টানা চার ঘণ্টা গণনা করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং সৌদি রিয়ালও মিলেছে।

Visit casino-promo.biz for more information.

আজ সোমবার গণনা শেষে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে দানের টাকার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক (গতকাল প্রত্যাহার করা) মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারে তিনটি ডেক ও একটি ছোট দানবাক্স সিলগালার পাশাপাশি নতুন করে চারটি দানবাক্স বসানো হয়। চার দিন পর আজ বেলা দুইটায় এসব ডেক ও দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়।

জেলা প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ভক্ত, অনুরাগীরা প্রতিদিনই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। তবে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে প্রচুরসংখ্যক মানুষ এখানে আসেন। এ সময় তাঁরা টাকাসহ নানা সম্পদ মাজারে দান করেন। তবে মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে কখনোই দানের হিসাব প্রকাশ্যে গণনা করা হয়নি।

টাকা গণনার আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম যান। পরে বেলা দুইটায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। টাকা গণনার শেষ পর্যায়ে ডিসি মাজার এলাকা ছাড়েন। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাংবাদিকদের দানের টাকার হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সিলেটের ওয়াক্ফ কর্মকর্তা মো. সজল মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাজারের তিনটি ডেক ও একটি ছোট দানবাক্স সিলগালা করা হয়েছিল। এ সময় জেলা প্রশাসন নতুন করে আরও চারটি দানবাক্স বসিয়েছিল। আজ দুপুর দুইটায় এসব খুলে টাকা গণনা করা হয়। তিনি জানান, আটটি ডেক ও দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং ২টি ৫ সৌদি রিয়াল মিলেছে। এসব টাকা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের নামে ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ঐতিহাসিক ডেক সিলগালা করার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা–সমালোচনা তৈরি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে ডিসি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে ডিসির সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ডিসির পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা, সমালোচনার মধ্যেই গতকাল রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করে। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রুর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ বা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

যদিও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র বলছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন সারওয়ার আলম। বিশেষ করে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার-সংক্রান্ত তাঁর কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশও বিভিন্ন কারণে তাঁর বিরোধিতা করছিল। এসব কারণেই তিনি বদলি হয়েছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

এদিকে ডিসির প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সারওয়ার আলমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আজও ‘সচেতন সিলেটবাসীর’ ব্যানারে সিলেটে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বেলা ১১টায় ও বেলা ২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়। এ ছাড়া একই দাবিতে দুপুরে নগরের কোর্ট পয়েন্টে সড়ক অবরোধ ও বিকেলে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় মানববন্ধন করেছেন কিছু মানুষ ও সংগঠন।

Read full story at source