২ আমলে মিলবে কোরবানির সওয়াব
· Prothom Alo

পৃথিবীতে আগমনকারী সমস্ত নবীর উম্মতের ওপর কোরবানির বিধান ছিল। এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল।
Visit afsport.lat for more information.
রাসুল (সা.) বলেন,‘কোরবানির দিন মানুষের কোনো আমল আল্লাহর কাছে কোরবানি অপেক্ষা অধিক প্রিয় নয়। কেয়ামতের দিন কোরবানির পশু তার শিং, লোম ও খুরসহ উপস্থিত হবে। আর তার রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। সুতরাং তোমরা আনন্দচিত্তে কোরবানি করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)
কোরবানি মূলত হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগ ও আনুগত্যের স্মৃতিবিজড়িত সুন্নত। তবে হাদিস শরিফে এমন দুটি আমলের কথা এসেছে, যেগুলোর মাধ্যমে কোরবানির সমপরিমাণ নেকি অর্জনের আশা করা যায়।
অনলাইনে কোরবানির পশু কেনা: ৫ বিধান জানা জরুরি১. জিলহজের প্রথম দশদিন চুল-নখ না কাটা
যারা কোরবানি করবেন, তাদের জন্য জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা মোস্তাহাব। এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যার কাছে কোরবানির পশু রয়েছে, সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৭৭)
তবে শুধু কোরবানিদাতারাই নয়, যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই, তারাও এ আমলের মাধ্যমে কোরবানির সওয়াব অর্জনের আশা করতে পারেন। এ বিষয়টিও হাদিসে এসেছে।
একদিন নবীজি (সা.) বললেন, ‘কোরবানির দিনকে ইদের দিন হিসেবে পালন করার জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে, যা আল্লাহ এই উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন।’ এ সময় এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমার কাছে দুধ দেওয়া বা মাল বহনের পশু ছাড়া অন্য কোনো পশু না থাকে, তাহলে কি সেটাই কোরবানি করব?’
তিনি বললেন, ‘না। তবে তুমি কোরবানির দিন তোমার চুল ও নখ কাটবে, গোঁফ ছোট করবে এবং নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করবে, এগুলোই আল্লাহর কাছে তোমার কোরবানি বলে গণ্য হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৮৯)
সাহাবি ও তাবেয়িদের এ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা যায়। ওমর (রা.) এক নারীকে জিলহজের প্রথম দশকে তার সন্তানের চুল কাটতে দেখে বলেছিলেন, ‘যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে, তবে ভালো হতো।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৭৭২৭)
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.)-ও জিলহজের প্রথম দশকে চুল কাটা অপছন্দ করতেন। এমনকি এ সময় ছোট শিশুদের মাথা মুণ্ডন করাকেও তিনি পছন্দ করতেন না। (আল-মুহাল্লা বিল আসার, ৬/২৮)
শরিকানা কোরবানিতে যে ৯ বিধান জানা জরুরি২. সবার আগে জুমায় উপস্থিত হওয়া
শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক ইদের দিন। এদিন পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় জুমার দিন সমস্ত দিনের সর্দার। এটি আল্লাহর নিকট ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহার চেয়েও মর্যাদাপূর্ণ। এদিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে— এদিন আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন, এদিনই তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠান, এদিন তাকে মৃত্যু দেন, এদিন এমন একটি সময় রয়েছে যখন মানুষ গুনাহ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন ছাড়া যা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা দান করবেন এবং কেয়ামতও সংঘটিত হবে এদিনেই।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫৫৪৮)
জুমার দিনের এমন একটি আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে কোরবানির সমপরিমাণ নেকি অর্জনের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তা হলো আগেভাগে মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করা।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে সর্বপ্রথম মসজিদে উপস্থিত হলো, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় ব্যক্তি যেন একটি গাভি কোরবানি করল। তৃতীয় ব্যক্তি যেন একটি বকরি কোরবানি করল।
চতুর্থ ব্যক্তি যেন একটি মুরগি সদকা করল এবং পঞ্চম ব্যক্তি যেন একটি ডিম সদকা করল। অতঃপর ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হয়ে মিম্বরে বসেন, তখন ফেরেশতারা সওয়াব লেখার খাতা বন্ধ করে খুতবা শোনার জন্য বসে যান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১)
ফয়জুল্লাহ রিয়াদ : মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ