সালিসের জন্য অপেক্ষার সময় তিন তরুণকে ছুরিকাঘাত, একজনের মৃত্যু, বাড়িঘরে আগুন

· Prothom Alo

নরসিংদীর পলাশে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্যে তিন তরুণকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবারের এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আজ ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এলাকায় এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

মারা যাওয়া তরুণের নাম আশিক ভূইয়া (২৫)। তিনি পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। অন্যদিকে আহত দুজন হলেন রুহুল আমিন ও মো. ইলিয়াস। তাঁরা দুজনই গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী পারুলিয়া এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে সাগর ও সোহাগের সঙ্গে আশিকের পূর্বশত্রুতা ছিল। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষই মীমাংসার জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেলে পারুলিয়া ভূঁইয়া বাড়ির সামনে সালিসের সময় ও স্থান নির্ধারণ করে। এদিন বিকেলে দুই পক্ষের লোকজনই সেখানে জড়ো হয়ে সালিসকারীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাগর ও সোহাগসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশিকের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ছুরি দিয়ে আশিককে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করেন। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হন ইলিয়াস ও রুহুল আমিন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাতেই তিনজনকে সেখানে নেওয়ার পর আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিকের মৃত্যু হয়।

আশিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগের বাড়িঘরে ভাঙচুর-অগিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নির্বাপণ করেন।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগ পলাতক। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে ছুরিকাঘাতে আশিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Read full story at source