দুঃখু মিয়ার কিন্ডারগার্টেন হবে উচ্চবিদ্যালয়

· Prothom Alo

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই আলতাফ হোসেন ওরফে দুঃখু মিয়ার। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পা দিয়ে লিখেই অর্জন করেছেন উচ্চশিক্ষা। বিশেষ কোটায় পাননি কোনো সরকারি বা বেসরকারি চাকরি। শেষ পর্যন্ত নিজেই পৈতৃক জমিতে গড়ে তুলেছেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’ নামের এক স্কুল। চার সন্তানের জনক দুঃখু মিয়ার দুই হাত না থাকলেও সাহস হারাননি। পা দিয়ে লিখে হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার প্রতীক।

প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুঃখু মিয়াকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা নজরে পড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর নির্দেশে আজ সোমবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনায় দুঃখ মিয়ার বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।

Visit extonnews.click for more information.

শিক্ষক দুঃখু মিয়াসরকারপ্রধান আমার এই বিদ্যালয় সম্পর্কে জেনেছেন, এতেই আমি আনন্দিত। স্বপ্ন দেখি, আমার এই বিদ্যালয় একদিন উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। আজ জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করায় স্বপ্নপূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।

এ সময় দুঃখু মিয়ার জীবন-সংগ্রামের গল্প শোনেন জেলা প্রশাসক। বিদ্যালয়ের কক্ষে কক্ষে ঘুরে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় দুঃখু মিয়ার হাতে অনুদান এবং শিক্ষার্থীদের গাছের চারা, স্কুলব্যাগ ও খেলার সামগ্রী তুলে দেন। এই বিদ্যালয়কে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গণমাধ্যমে আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়ার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর জন্য কী করা যায়। তাই আজ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে তাঁর জীবনের গল্প শুনেছি, স্বপ্ন জানতে চেয়েছি।’

দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর নন, সারা দেশের গর্ব বলে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, সরকারি সহায়তা নিয়ে জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে থাকবে। তাঁর স্বপ্নের এই বিদ্যালয়কে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে যা যা করণীয়, তা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুঃখু মিয়ার কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। আজ সোমবার দুপুরে

প্রতিষ্ঠান সূত্রে বলছে, আলতাফ হোসেন শৈশব থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। পা দিয়ে লিখেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন। তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করে হতাশ হলেও থেমে যাননি। বাবার জমি বিক্রির টাকায় ২০০৭ সালে নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন। পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৫ শিশু প্রতিষ্ঠানটিতে পড়ছে।

নিজের লড়াই-সংগ্রামের গল্প প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়ার অনুভূতি জানতে চাইলে দুঃখু মিয়া বলেন, ‘সরকারপ্রধান আমার এই বিদ্যালয় সম্পর্কে জেনেছেন, এতেই আমি আনন্দিত। স্বপ্ন দেখি, আমার এই বিদ্যালয় একদিন উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। আজ জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করায় স্বপ্নপূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই, আপনাদের মাধ্যমেই আমি স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যেতে পারছি।’

এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন প্রমুখ।

Read full story at source