দুর্ঘটনায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত, দুই বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত
· Prothom Alo
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
Visit rhodia.club for more information.
নিহত সাদমান রহমান (নাবিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ীর মধ্য ভবানীপুর এলাকায়। সাদমান বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সাদমান মোটরসাইকেলে মদিনা মার্কেট এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মহাসড়কের বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন সাদমানের সহপাঠী ও ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের মুঠোফোনে কল করে বিষয়টি জানান। তাঁরা এসে প্রথমে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মুজাহিদুল ইসলাম, ওসি–তদন্ত, জালালাবাদ থানা খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুল মুহিত প্রথম আলোকে জানান, রাত একটার দিকে সাদমানকে হাসপাতালে আনা হয়। এর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘তাঁর (সাদমান) অভিভাবকদের আমরা অবহিত করেছি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পাঠানো হয়েছে। আমাদের দুজন শিক্ষার্থী লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে রওনা দিয়েছেন।’
স্পিডব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খেয়েছে বলে জানান সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি–তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে। গতকাল শনিবার গভীর রাতেআজ রোববার সকাল ছয়টার দিকে লাশবাহী গাড়ি সাদমানের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য জি এম রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, সাদমানের লাশের সঙ্গে যাওয়া দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন তাঁর সহপাঠী ও একই গ্রামের বাসিন্দা।
দুই বিভাগে পরীক্ষা স্থগিত
শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণে আজ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিভাগের প্রধান আবদল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।’ তিনি জানান, আজ বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একটি পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল, সেটি স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাদমানের যে সহপাঠী লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন, তিনি খাদ্য প্রকৌশল ও চা প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী। ফলে ওই বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের একটি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।