রাজশাহী কলেজের শিক্ষকের লেখা বই স্প্রিঙ্গারে, দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা
· Prothom Alo
বইটির রিভিউ (পর্যালোচনা) হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, প্রুফ রিডিং (ভুল সংশোধন) ভারতে, বাঁধাই ও মুদ্রণ হয়েছে নেদারল্যান্ডসে, প্রকাশ হয়েছে সুইজারল্যান্ড থেকে আর বিপণন হচ্ছে ফ্রান্স থেকে! বিক্রয় ও বিপণনের দায়িত্ব পেয়েছে অ্যামাজন ও কিন্ডল লাইব্রেরি (যুক্তরাষ্ট্র)। দাম? বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। হাইড্রোকেমিক্যাল ইভাল্যুয়েশন অ্যান্ড গ্রাউন্ডওয়াটার কোয়ালিটি শিরোনামের বইটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঙ্গার। নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে বইটি ই–বুক ও হার্ড কপি আকারে প্রকাশ পেয়েছে।
এই বইয়ের লেখক রাজশাহী কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. সাজেদুল ইসলাম। এর আগেও স্প্রিঙ্গার থেকে বাংলাদেশি লেখকদের বই প্রকাশ পেয়েছে। তবে সাজেদুল ইসলাম জানালেন, এককভাবে লেখা বইয়ের ক্ষেত্রে তাঁরটিই প্রথম। ২০২৩ সালের নভেম্বরে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। দাম রাখা হয়েছে ১৩০ ইউরো। ভ্যাট, শুল্কসহ বাংলাদেশি মুদ্রায় দাম পড়ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ডাউনলোড করতে খরচ পড়ে ১১১ দশমিক ২৭ ইউরো। সরকার এবার সাজেদুল ইসলামকে ‘জাতীয় গুণী শিক্ষকের’ মর্যাদা দিয়েছে।
Visit orlando-books.blog for more information.
সুন্দরবনে বাঘের মুখোমুখিও হয়েছি কয়েকবার: ইমন চৌধুরীঅধ্যাপক সাজেদুল ইসলাম জানান, বইটি লিখতে তাঁর ছয় থেকে সাত মাস সময় লেগেছে। কিন্তু রিভিউ ও অন্যান্য কাজে আরও প্রায় এক বছর লেগেছে। বইয়ে ভূ–রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে জলস্তরের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের কৌশল ও মাত্রা বিষয়ে গবেষণাধর্মী বিশ্লেষণ স্থান পেয়েছে।
জলস্তরে খনিজ–পানির সম্ভাব্য মিথস্ক্রিয়ার কৌশল, পানিতে বিষাক্ত ভারী ধাতুর সংমিশ্রণ, তাপগতীয় ব্যাখ্যা, জলস্তরে দ্রবীভূত কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্যাসের প্রভাব, পানিদূষণের উৎস, প্রাকৃতিক নিয়ামকের প্রভাবের ধরন, আইসোটোপ লঘূকরণসহ নানা বিষয় বইয়ে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক সাজেদুল ইসলাম। বিশ্বের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে ভূ–রসায়ন, ভূতাত্ত্বিক জলস্তর ও ভূগর্ভস্থ পানির গুণাগুণ ও ব্যবহার উপযোগিতা নিয়ে যে গবেষকেরা গবেষণা করেন, তাঁদের জন্য বইটি সহায়ক হতে পারে।
কথায় কথায় বইয়ের একটি অধ্যায় নিয়ে বলছিলেন সাজেদুল ইসলাম, ‘যেকোনো প্রাণী পানি পান করে। পানি ছাড়া আরও প্রায় ৩০ রকম খনিজ উপাদান গ্রহণ করার জন্য আমরা পানি পান করি। এগুলো অন্য কোনো খাবার থেকে সহজে পাওয়া যায় না। তবে এসব উপাদানের নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। মাত্রার বেশি হলে সেটি শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যেমন: ভূগর্ভস্থ পানিতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা প্রতি লিটারে ৭৫ মিলিগ্রামের বেশি থাকা উচিত নয়। কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চলসহ পৃথিবীর অনেক স্থানের পানিতে এর চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ক্যালসিয়াম শনাক্ত হয়েছে। আমার বইয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পানির গুণাগুণ পরিমাপ ও বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আলাদা একটি অধ্যায় আছে।’
নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে বইটি ই–বুক ও হার্ড কপি আকারে প্রকাশ পেয়েছে।অধ্যাপক সাজেদুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। পরে পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এই ইনস্টিটিউটের পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পরিবেশ; তথা ভূগর্ভস্থ পানি ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি জানান, তাঁর রচিত অন্তত ৩৫টি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে উপস্থাপন করেছেন। কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে জন্মেছেন এই শিক্ষক।
কীভাবে স্প্রিঙ্গারের সঙ্গে যোগাযোগ হলো? প্রশ্নের উত্তরে সাজেদুল ইসলাম বললেন, ‘পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে স্প্রিঙ্গারের একটি করে কার্যালয় আছে। আমি যুক্তরাষ্ট্রের কার্যালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলাম। প্রথমে অনলাইনে প্রায় ২০ পৃষ্ঠার একটা ফরম পূরণ করতে হয়। তারা এটা দেখে নির্ণয় করে এই কনটেন্ট কত বছর চলতে পারে, কী পরিমাণ মুনাফা হতে পারে। সব যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে তারা লেখার জন্য অনুমতি দেয়। তারপর ৩০ পৃষ্ঠার একটি চুক্তিপত্র সই হয়। সাইনিং মানি হিসেবে দেওয়া হয় এক হাজার ডলার।’ অধ্যাপক সাজেদুল ইসলাম মনে করেন, দেশে বসে যদি বিদেশ থেকে একটি ডলারও আয় করা যায়, সেটিই তাঁর সার্থকতা।