চ্যাটজিপিটির গণিত গবেষণা নিয়ে বিতর্ক, ওপেনএআই বয়কটের ডাক
· Prothom Alo

গণিতের শত শত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান প্রকাশ করে বিতর্কের মুখে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। এরই মধ্যে গণিতবিদদের ওপেনএআই বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকস। সংগঠনটির অভিযোগ, গণিতবিদদের অনুরোধ ছাড়াই এ ধরনের গবেষণা করেছে ওপেনএআই। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গবেষণাসংক্রান্ত নথি প্রকাশের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
Visit milkshakeslot.online for more information.
গত সপ্তাহে ওপেনএআই গণিতের ৩৭৭টি সমস্যার সমাধান প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি গিটহাবে ৭০০টির বেশি ফাইলের একটি সংগ্রহশালা (রেসপোজিটরি) উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকসের মতে, গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা, নৈতিকতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ। এত বিপুলসংখ্যক ফাইল একসঙ্গে প্রকাশ করলেই গণিতের অগ্রগতিতে অবদান রাখা হয় না। গণিতবিদেরা ওপেনএআইকে এ ধরনের গবেষণা করার অনুরোধ জানাননি। এই উদ্যোগ গবেষণার দক্ষতা প্রদর্শনের পরিবর্তে ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা।
ওপেনএআই নিজেদের উদ্যোগের পক্ষে গণিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি অ্যাডভাইজরি গ্রুপের পরামর্শের কথা উল্লেখ করেছে। অথচ ওই অ্যাডভাইজরি গ্রুপ উন্নত পর্যায়ের গণিত সমস্যা নিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ মডেল ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। আর তাই অ্যাডভাইজরি গ্রুপের অবস্থান উপেক্ষা করে ওপেনএআই বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকস।
গত মাসে ওপেনএআই দাবি করেছে, তাদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই মডেল গণিতের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত সমস্যা নাভিয়ের–স্টোকসের সমাধান করেছে। তরল ও গ্যাসের প্রবাহ ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহৃত নাভিয়ের–স্টোকস সমীকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত এই সমস্যা গণিতের সাতটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার একটি। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিটির বিপরীতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার নির্ধারিত রয়েছে।
গণিতবিদদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের তৈরি মডেল ব্যবহার করে জটিল ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করছে। এতে গবেষণার স্বচ্ছতা, ফলাফলের যথার্থতা যাচাই এবং উন্নত এআই ব্যবহারের সুযোগের সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এআই এমন গাণিতিক যুক্তি ও প্রমাণ তৈরি করতে পারে, যা মানব গবেষকদের পক্ষে বোঝা বা যাচাই করা কঠিন। এসব প্রমাণের যথার্থতা নিশ্চিত বা তার দায়দায়িত্ব নেওয়াও গবেষকদের জন্য জটিল হয়ে উঠতে পারে। শক্তিশালী এআই ব্যবহারের সুযোগ সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে গণিত গবেষণায় বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে