ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামফলকে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ কবে ফিরবে, জানে না প্রশাসন

· Prothom Alo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’লেখা নামফলক দুই দিন আগে সরিয়ে ফেলা হলেও এখনো সেখানে আগের ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’লেখা নামফলক স্থাপন করা হয়নি। এই নামফলক কবে বসানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি হল প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সিনেটে হলটির নাম পরিবর্তনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে প্রশাসনিকভাবে হলটির আগের নামই বহাল রয়েছে। হল প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরোনো নাম বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

Visit sport-tr.bet for more information.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিনেটে হলের নাম পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী আগের নামই বহাল থাকবে।’

সহ-উপাচার্য বলেন, সম্প্রতি হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। প্রশাসনিকভাবে যে নামটি রয়েছে, সেটিই বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে হলের প্রাধ্যক্ষ তাঁকে জানিয়েছেন। তবে আগের নাম আবার লেখার কাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।

গত বুধবার দুপুরে হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা নামফলকটি সরানোর কাজ শুরু করে হল প্রশাসন। এর পর থেকে ফটকটি কোনো নামফলক ছাড়াই রয়েছে।

নামফলক কবে এবং কীভাবে স্থাপন করা হবে, তা জানতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ওসমান হাদি’ নামফলকটি শিক্ষার্থীরা তাঁদের মতো করে লিখেছিলেন। তবে অফিশিয়াল নাম শেখ মুজিবুর রহমান হল। প্রশাসনিকভাবে কোনো পরিবর্তন এলে তা প্রশাসনিকভাবেই পরিবর্তন করা হবে।

নাম মুছে ফেলার পর বিক্ষোভ

হলের নাম মুছে ফেলার পর বুধবার রাতে হল ফটকের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহর আহ্বানে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এ সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব গত জুনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সিনেট সভায় চূড়ান্তভাবে অনুমোদন না হওয়ায় ডাকসুর ভিপিসহ পাঁচজন প্রতিনিধি সিনেট সদস্য সভা থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন।

যেভাবে নামবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হলের প্রধান ফটকের পুরোনো নামফলক সরিয়ে সেখানে শহীদ ওসমান হাদি হল লিখে দেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে ক্রেন ব্যবহার করে হলের নামফলক পরিবর্তনের এ কাজ করা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের নামফলকে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’

পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল করার সুপারিশ করা হয়। একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এসব সুপারিশ সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে কাজী নজরুল ইসলাম হল করার দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

Read full story at source