নিয়োগপত্রের দাবিতে দিনভর অবস্থান, কাল আবার কর্মসূচি

· Prothom Alo

নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে প্রায় ৯ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর শাহবাগ ছেড়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা।

Visit freshyourfeel.org for more information.

আজ রোববার রাত আটটার দিকে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে সরে যান। তবে দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে আবারও শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারী প্রার্থীরা জানান, আগামীকাল সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হবেন তাঁরা। এরপর সকাল ১০টায় শাহবাগে কর্মসূচি শুরু করবেন। এর মধ্যে তাঁদের সবার নিয়োগ নিশ্চিত হলে তাঁরা সেখানে জড়ো হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করবেন। আর নিয়োগ নিশ্চিত না হলে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

আজ সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক প্রার্থী অংশ নেন।

নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের একজন তানভীর রহমান। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের বাদ দেওয়ার যে কারণগুলো জানিয়েছেন, সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের বাদ দেওয়ার অধিকার কি সরকার রাখেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি এবং আপনার আমলে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধু রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? এ প্রশ্নটাই আপনার কাছে রেখে গেলাম।’

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি সংবলিত কাগজ। ২৭ সেপ্টেম্বর

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫–এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১টি জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের আগামী ১ অক্টোবর যোগ দেওয়ার কথা। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তখন সেই তালিকায় নাম না থাকা প্রার্থীদের তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চা বলছে, তারা ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগ হওয়ার তথ্য পেয়েছে। বাদ পড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৭০০–এর বেশি।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটির বেশি এবং পৌনে চার লাখের মতো শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের কয়েক হাজার পদও শূন্য রয়েছে।

সচিবালয়ে প্রতিনিধিদল

শাহবাগে অবস্থানের মধ্যে আন্দোলনকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বেলা দেড়টার দিকে সচিবালয়ে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিয়োগের বিষয়ে সমাধান চাওয়া। প্রতিনিধিদলটি মন্ত্রণালয়ে কারও সাক্ষাৎ না পেয়ে বিকেল চারটার দিকে সচিবালয় থেকে শাহবাগে ফিরে আসে।

কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক প্রার্থী অংশ নেন।

প্রতিনিধিদলের এক সদস্য ছিলেন আরমানুল রহমান। সচিবালয় থেকে ফিরে এসে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) সচিবালয়ে তাঁদের প্রতিনিধিদল পাঠাতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গেলেও সেখানে কোনো সাড়া পাননি তাঁরা। তাঁদের অবহেলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।

পরে আরমানুল আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানান, যেসব জেলায় পুলিশ ভেরিফিকেশনে প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সবার নিয়োগপত্র পাওয়ার আগপর্যন্ত তাঁরা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

Read full story at source