ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে ইংলিশ কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠিত
· Prothom Alo
কেউ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা দিচ্ছেন, কেউ হাজির হয়েছেন সাহিত্যের বিখ্যাত কোনো চরিত্রের সাজে। কেউ আবার ক্যামেরায় ধরে রাখছেন প্রকৃতি ও নগরজীবনের গল্প। কোথাও চলছে গবেষণা নিয়ে আলোচনা, কোথাও পোস্টার প্রদর্শনী, আবার কোথাও নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। এমন নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলো ইংলিশ কার্নিভ্যাল ২০২৬।
Visit freshyourfeel.org for more information.
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ইংরেজি বিভাগের ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের এই কার্নিভ্যালের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ওয়ার্ডস ফর দ্য প্লানেট, অ্যাকশন ফর টুমরো’। একাডেমিক চর্চার পাশাপাশি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিভা তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মেট্রো স্টেশনে চালু হয়েছে পোলার আইসক্রিম পার্লার ‘চিল স্টেশন’গানের সুরে শুরু
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইংরেজি বিভাগের ১৬ বছরের পথচলা ও বিকাশের ওপর সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কেয়া চক্রবর্তী। এরপর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন বিভাগের দুই শিক্ষক সাবরিনা ইসলাম ও সুমাইয়া জাহান শশী।
পরে বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন, বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইটের উদ্বোধন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে বিভাগের ১৬ বছর পূর্তি উদ্যাপন করা হয়। ওয়েবসাইট তৈরিতে অবদানের জন্য সামিউল আলম শাজালকে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ।
গবেষণা নিয়ে সেমিনার
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ইউএপি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণার মৌলিক বিষয়’ শীর্ষক সেমিনার। বিভাগের দশম সিপিএডি সিম্পোজিয়ামের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন অধ্যাপক ড. বিজয় লাল বসু। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ড. আবু সুফিয়ান ইমন।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণার বিভিন্ন পদ্ধতি, একাডেমিক অনুসন্ধান এবং অর্থবহ গবেষণার চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের ‘ছোটকাকু’ সিরিজের ১৪টি বই প্রকাশিত হয়েছেমঞ্চে তাৎক্ষণিক বক্তৃতা
কার্নিভ্যালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। পাবলিক স্পিকিং অ্যান্ড ডিবেট ক্লাবের আয়োজনে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ পর্বে অংশ নেন ১০ জন প্রতিযোগী। প্রতিযোগিতাটি আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ক্লাবের কনভেনর তাসমিয়াহ্ আক্তার ও সদস্য মুমায়জা মোহাম্মদ।
প্রতিযোগীদের সামনে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও পরিবেশ নিয়ে সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। ‘শিক্ষার পরিসর কি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত?’, ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগ কি সত্যিই পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে?’ কিংবা ‘প্রযুক্তি কি মানুষের সৃজনশীলতার বিকল্প হতে পারে?’—এমন নানা বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ড. আফরোজা আজিজ সুচনা ও ইস্তিয়াক নূর মুহিত। প্রতিযোগিতায় প্রথম হন সামায়তা রহমান, দ্বিতীয় আলিফ আমিনা আইভি এবং তৃতীয় সুবাইতা তাসনিম। বিজয়ী ও চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের দেওয়া হয় সনদ ও কিশোর আলো ম্যাগাজিন।
এদিন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইসমাত জারিনের নেতৃত্বে পিএসএসির উদ্যোগে অ্যালামনাইদের সঙ্গে ইংরেজি পাঠ্যক্রম নিয়ে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পাঠ্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে মতামত দেন অ্যালামনাইরা।
পর্দায় ‘ডেড পোয়েটস সোসাইটি’
বিকেলে অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের জন্য দেখানো হয় ডেড পোয়েটস সোসাইটি চলচ্চিত্র। আয়োজনটি করেন কনভেনর সিফাতুর রহিম ও লেকচারার সুমাইয়া জাহান শশী।
চলচ্চিত্রের গল্প ও চরিত্রের মাধ্যমে শিক্ষা, শিক্ষকতার ভূমিকা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও কবিতার গুরুত্ব নিয়ে ভাবার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। সাহিত্যকে শুধু বইয়ের পাতায় নয়, চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও অনুভব করার এই আয়োজন কার্নিভ্যালের সৃজনশীল পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বুলগেরিয়ায় আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে বাংলাদেশের ৬ কিশোরছবিতে প্রকৃতি ও শহরের গল্প
কার্নিভ্যালের আরেকটি আকর্ষণ ছিল ‘আমার ক্যামেরায় প্রকৃতি ও নগরজীবন’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএপি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের ক্যামেরায় উঠে আসে প্রকৃতি ও নগরজীবনের নানা দৃশ্য।
প্রদর্শনীতে সেরা তিনজন হিসেবে নির্বাচিত হন মাহফুজুর রহমান মাহি, কাজী মেহের জান্নাত লোবা ও রিয়ানুর ইসলাম হামিম। অ্যালামনাই এস এম রোকনুজ্জামান পান সম্মানজনক স্বীকৃতি।
সাহিত্যের চরিত্ররা এলেন মঞ্চে
২৪ সেপ্টেম্বর ছিল কার্নিভ্যালের দ্বিতীয় দিন। এদিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কসপ্লে প্রতিযোগিতা। সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্রগুলোকে নিজেদের মতো করে মঞ্চে তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন নিগার আফরোজ ও ইসমাত জারিন। ক্যাসান্দ্রা চরিত্রে আফরিন নূর প্রথম হন। দ্য রেপ অব দ্য লক-এর বেলিন্ডা চরিত্রে শার্লি জাহান প্রীতি দ্বিতীয় এবং দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস-এর পোরশিয়া চরিত্রে সায়ীমা জান্নাত তৃতীয় হন।
শেষ হলো বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড জাতীয় পর্বপোস্টারে গবেষণার ভাবনা
দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় পোস্টার উপস্থাপনা। আটটি পোস্টারের মধ্যে তিনটি ছিল সাহিত্যবিষয়ক, তিনটি ভাষাবিজ্ঞান এবং দুটি ছিল হাইব্রিড বা আন্তবিষয়ক। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ড. তানজিয়া সিদ্দিকা, ড. মো. মুজিব উল্লাহ ও নুরুল আহাদ।
প্রতিযোগিতায় প্রথম হন আয়েশা তাবাসসুম কবির ও রুশাবা ফাতামা, দ্বিতীয় মানশী ব্যানার্জি তিথি ও মো. হাফিজুর রহমান এবং তৃতীয় নুসরাত জাহান ও ফারিসা হোসাইন।
এদিন প্রবন্ধ লেখা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে নিয়ে ৩০ মিনিটে প্রবন্ধ লেখেন। আয়োজনটি তত্ত্বাবধান করেন ইংরেজি ভাষা ক্লাবের উপদেষ্টা নুরুল আহাদ। প্রতিযোগিতায় প্রথম হন সামায়তা রহমান, দ্বিতীয় নাফিসা তাবাসসুম হৃদি এবং তৃতীয় আয়েশা তাবাসসুম কবির। লেখার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমসাময়িক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলকভাবে ভাবার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণবিষয়ক প্রতিযোগিতাপুরস্কার ও অ্যালামনাই সম্মাননা
দুই দিনের আয়োজনের সমাপ্তি হয় ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএপির স্কুল অব হিউম্যানিটিজের ডিন অধ্যাপক ড. এম এ বাকি খালীলি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদ।
অনুষ্ঠানে ইংরেজি বিভাগের তিনজন অ্যালামনাইকে তাঁদের একাডেমিক ও পেশাগত সাফল্যের জন্য বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন শেখ রেজা হায়দার, ইমামুল মুত্তাকিন ও রোকসানা ইকবাল জয়া।
রোকসানা ইকবাল জয়া পরপর দুটি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে কাস্টমস ও এক্সাইজের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত। ইমামুল মুত্তাকিন ইউনিভার্সিটি অব কেরালায় ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি গবেষক এবং সম্পূর্ণ অর্থায়িত আইসিসিআর স্কলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে শেখ রেজা হায়দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।
পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদ ও ক্রেস্ট। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী রামিসা, নিশাত, মুক্তাদির ও নুসরাত।
সমাপনী বক্তব্যে কার্নিভ্যাল সফল করতে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজক, বিচারক, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, প্রশাসনিক ও সহায়ক কর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়। বিশেষভাবে বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক তাকাদ আহমেদ চৌধুরীর পরিকল্পনা, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে‘শাপা ডে’ ও নতুনদের বরণ
কার্নিভ্যালের প্রাণবন্ত আয়োজনগুলোর একটি ছিল ‘শাপা ডে’। ইংরেজি কালচারাল ক্লাবের তত্ত্বাবধানে এ উপলক্ষে বিভাগের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন স্টল স্থাপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো বিভাগটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজনে সাজানো হয় বিভাগীয় প্রাঙ্গণ।
কার্নিভ্যালের শেষ আয়োজন ছিল নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার অনুষ্ঠান ‘অরোরা’ ফ্রেশার্স ইন্ডাকশন প্রোগ্রাম। সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন হরর নাটক দ্য লাস্ট ভিজিটর। নতুনদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুটা স্মরণীয় করে তোলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের এ আয়োজন।
দুই দিনের ইংলিশ কার্নিভ্যালে একসঙ্গে দেখা গেল বক্তৃতা, গবেষণা, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, অভিনয়, লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। ক্লাসরুমের বাইরেও শেখার যে কত পথ, শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের যে কত মাধ্যম—ইংলিশ কার্নিভ্যাল ২০২৬ যেন তারই একটি উদাহরণ। ‘ওয়ার্ডস ফর দ্য প্লানেট, অ্যাকশন ফর টুমরো’—এই বার্তা সামনে রেখে উৎসব শেষ হলেও এর সৃজনশীলতার রেশ থেকে গেল ইউএপির ক্যাম্পাসজুড়ে।
ইন্দোনেশিয়ায় আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে বাংলাদেশ