‘মনে মনে ভাবতাম, একদিন আমিও সংবর্ধনা নিতে যাব’
· Prothom Alo
‘ছোটবেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া বড় আপুরা সংবর্ধনা নিতে আসতেন। তখন মনে মনে ভাবতাম, একদিন আমিও সংবর্ধনা নিতে যাব। আল্লাহ আমার সেই আশা পূরণ করেছেন। আজ অনুষ্ঠানে এসে অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে। শিক্ষকদের পরামর্শ এবং এই আয়োজন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে আরও অনুপ্রেরণা দেবে।’
Visit palladian.co.za for more information.
আজ রোববার জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে সুমাইয়া ফাহমিদা। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচবিবি নছির মন্ডল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছে সে।
জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে সোয়াইব মোহাম্মদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে অনেক দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তার। বন্ধুদের কাছে পেয়ে তাই আনন্দটা তার একটু বেশিই।
ফটো ফ্রেমে ছবি তোলায় ব্যস্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীপ্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
এ সংবর্ধনার জয়পুরহাট পর্ব শহরের স্টেশন সড়কে স্বপ্নছায়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয়। সকাল আটটার পর থেকেই অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করে। সকাল নয়টার দিকে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও নাশতা তুলে দেওয়া হয়। পরে কুপন নিয়ে আইসক্রিমের স্টলের সামনে সারিতে দাঁড়ায় তারা। কেউ আইসক্রিম খেতে খেতে বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়ে সেলফি তুলতে।
দলীয় নৃত্য পরিবেশ করছেন পাঁচবিবির বাজিতপুর মারানাঠা মিশনের শিল্পীরাসকাল ১০টার মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায় মিলনায়তন। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের শুভেচ্ছা বক্তব্য পড়ে শোনান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনের বড় সাফল্য নয়। তোমাদের সুনাগরিক হতে হবে। তোমাদের জীবনকে কাজে লাগাতে হবে।’
জয়পুরহাট সদর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনে তোমাদের আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ভালো শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তোমরাই একেকজন জেলার ব্র্যান্ড হবে।’
অতিথিদের সঙ্গে কুইজ বিজয়ী শিক্ষার্থীরাপ্রথম আলোর রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ তিন ‘ম’—মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলতে শিক্ষার্থীদের শপথ করান। তিনি বলেন, জীবনে ভালো কিছু করতে হলে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে, মিথ্যা বলা যাবে না এবং শুধু মুখস্থনির্ভর না হয়ে বিষয় বুঝে শেখার অভ্যাস করতে হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সদস্য আরমান হোসেন ও সাব্বির হোসেন। অনুষ্ঠানের ফাঁকে চলে স্থানীয় শিল্পী সাজিয়া ইসলাম, পাঁচবিবির বাজিতপুর মারানাঠা মিশন ও বন্ধুসভার সদস্যদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, নৃত্য ও গান পরিবেশনা। কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেন অতিথিরা।