ট্রাফিক সিগন্যালে নীল লাইটের মানে কী

· Prothom Alo

রাস্তায় সিগন্যালে লাল, হলুদ ও সবুজ বাতি দেখলে আমরা সবাই বুঝি, এগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল। কিন্তু এর সঙ্গে যদি হুট করে একটা নীল বাতি যোগ করা হয়, তাহলে কেমন লাগবে? অনেকেই হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে ভাববে, এই নীল লাইটের মানে কী?

Visit newsbetting.cv for more information.

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় ঠিক এমনটাই ঘটছে। সেখানে চালকেরা ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে একটি উজ্জ্বল নীল বাতি দেখতে পাচ্ছেন। তুমি হয়তো ভাবতে পারো, এটা দিয়ে কী বোঝায়? আমাদের দেশে তো শুধু তিনটি লাইট দেখা যায়, এমন নীল বাতি তো নেই। মনে রেখো, কোনো ট্রাফিক নিয়ম না জানার মানে এই নয় যে তুমি জরিমানা থেকে বেঁচে যাবে! এই নতুন নিয়মটি সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা দিতে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রফেসর ডেভিড এ নয়েস দারুণ কিছু তথ্য জানিয়েছেন।

তুমি যদি সিগন্যালে একটা নীল বাতি দেখো, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এই নীল বাতিকে সাধারণত কনফার্মেশন লাইট বা রেড সিগন্যাল ইন্ডিকেটর বলা হয়। এর মূল কাজই হলো ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতিটি জ্বলছে কি না, তা দূর থেকে পুলিশকে বুঝতে সাহায্য করা। অর্থাৎ কেউ লাল বাতি অমান্য করে গাড়ি টান দিলে পুলিশ যেন সহজেই তাকে ধরতে পারে, সেটাই এর আসল উদ্দেশ্য। এটি কিন্তু লাল, হলুদ আর সবুজ বাতির সঙ্গে একই সারিতে থাকে না; বরং এটি মূল সিগন্যালের ওপরে বা পাশের কোনো খুঁটিতে বসানো থাকে।

নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে

এখন প্রশ্ন হলো, এটি ঠিক কীভাবে কাজ করে? এই নীল বাতিগুলো বৈদ্যুতিকভাবে মোড়ের লাল বাতির সঙ্গে যুক্ত থাকে। যখন পুলিশ সরাসরি লাল বাতিটি দেখতে পায় না, তখন তারা এই নীল বাতি ব্যবহার করে লাল বাতির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। সহজ কথায়, যখন সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলে, ঠিক তখনই নীল বাতিটিও জ্বলে ওঠে। নীল বাতি না থাকলে একজন পুলিশ অফিসারকে এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো যেখান থেকে চালক এবং লাল বাতি দুটোই দেখা যায়। কিন্তু এই নীল বাতির কারণে পুলিশ এখন মোড়ের যেকোনো দিক থেকে, এমনকি গাছের ডালের আড়ালে থাকলেও বুঝতে পারে যে সিগন্যালটি লাল কি না। এতে কম পুলিশ দিয়েও একই রাস্তার ওপর নজর রাখা সহজ হয়। অনেক অঙ্গরাজ্যেই ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য পুলিশকে নিজ চোখে ঘটনাটি দেখতে হয়, আর এই নীল বাতি সেই কাজটাই অনেক সহজ করে দেয়। ফেডারেল হাইওয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এর ফলে লাল বাতি অমান্যকারীকে ধাওয়া করতে গিয়ে পুলিশকে আর লাল বাতির মধ্যেই মোড় পার হওয়ার ঝুঁকি নিতে হয় না। এটা পুলিশের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।

তুমি হয়তো ভাবছ, এতে সাধারণ চালকদের কী লাভ? কেউ তো আর জরিমানা দিতে পছন্দ করে না, তবে লাল বাতি অমান্যকারীদের ঠিকমতো ধরতে পারলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার হার অনেক কমে যায়। এতে যারা বারবার লাল বাতি অমান্য করে তারা ধরা পড়ে এবং অন্যরাও একই ভুল করার আগে দুবার ভাবে। আর এভাবেই অনেকের জীবন বেঁচে যায়। ইনস্যুরেন্স ইনস্টিটিউট ফর হাইওয়ে সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে লাল বাতি অমান্য করার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং ১ হাজার ১১৯ জন মারা গেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল পথচারী, সাইকেল আরোহী অথবা অন্য গাড়ির যাত্রী, যাদেরকে লাল বাতি অমান্যকারী চালকরা ধাক্কা দিয়েছিল।

সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিও এখন রঙিন ফুলের বাগান

নীল রংটি বেছে নেওয়ার পেছনেও একটা বড় কারণ আছে। ফেডারেল হাইওয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চায়নি চালকেরা নতুন কোনো বাতি দেখে বিভ্রান্ত হোক, তাই তারা এমন একটা রং বেছে নিয়েছে যা লাল, হলুদ বা সবুজ নয়। নীল রংটি ট্রাফিক সিগন্যালের কোনো সাধারণ নির্দেশনার মধ্যে পড়ে না। তাই চালকেরা এটি দেখে ভুল করে ব্রেক কষবে না বা গতি বাড়াবে না। তা ছাড়া রাস্তায় নীল রঙের এলইডি বাতি বেশ বিরল এবং এর আলো রাতের বেলায় হেডলাইট, স্ট্রিটলাইট বা অন্যান্য সাদা, হলুদ ও লাল আলোর ভিড়ে খুব সহজেই উজ্জ্বলভাবে চোখে পড়ে। পাশাপাশি, নীল রঙের সঙ্গে পুলিশের একটা জোরালো সম্পর্ক থাকায় এটি পুলিশের কাজের জন্য বেশি মানানসই।

তুমি যদি আমেরিকায় গিয়ে নীল বাতি খুঁজতে চাও, তবে জেনে রাখো এটি কিন্তু পুরো দেশে একইভাবে ব্যবহার করা হয় না। এটি কোনো ফেডারেল বা জাতীয় ট্রাফিক নিয়মের অংশ নয়, বরং স্থানীয় পুলিশ বা পরিবহন সংস্থাগুলো নিজেদের সুবিধামতো এটি ব্যবহার করে। প্রফেসর নয়েস জানিয়েছেন, ফ্লোরিডা ও কলোরাডোতে এই বাতিগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যদিও আরও কয়েকটি রাজ্যে এগুলো রয়েছে। যেমন ২০১৪ সালে ফ্লোরিডার এই সিস্টেমের ওপর মিনেসোটা রাজ্যের পরিবহন বিভাগ একটি গবেষণা করে দেখতে পায়, নীল বাতির কারণে লাল বাতি অমান্যজনিত দুর্ঘটনা ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। এরপর মিনেসোটার ম্যাপলউড শহর ও অন্যান্য এলাকাতেও এটি বসানো হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি নিয়ে এখন মাতামাতি হলেও এই বাতিগুলো কিন্তু অনেক বছর ধরেই আছে। ২০০৭ সাল থেকেই ওয়াশিংটনের মেরিসভিলে এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। যেহেতু এগুলো পুরো শহরে না লাগিয়ে একটা একটা করে মোড়ে লাগানো হয়, তাই এগুলো নিয়ে স্থানীয় খবরে টুকটাক আলোচনাই বেশি হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ কি জেমি বিটন

সবশেষে, তুমি যদি কখনো এমন নীল ট্রাফিক বাতি দেখো, তবে তোমার কী করা উচিত? উত্তরটা খুব সোজা। তুমি সব সময় যা করো, ঠিক তা-ই করবে! অর্থাৎ সাধারণ ট্রাফিক নিয়মগুলো মেনে চলবে। এই বাতি তোমাকে কোনো নির্দেশ দিচ্ছে না, এটি পুরোপুরি পুলিশ অফিসারদের সুবিধার জন্য বসানো। সাধারণ চালক, সাইকেল আরোহী বা পথচারীদের জন্য ট্রাফিক আইন অনুযায়ী এর আলাদা কোনো অর্থ নেই। তবে হ্যাঁ, নীল বাতিটি জ্বলতে দেখলে হয়তো কিছু চালকের মনে ভয় কাজ করবে এবং অন্য সময় হয়তো তারা লাল বাতি অমান্য করলেও এই বাতিটি দেখে থেমে যাবে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

রাঙ্গাটুঙ্গীর কিশোরী ফুটবলারদের জন্য কিশোর আলোর বৃত্তি নবায়ন

Read full story at source