চোখের সামনে কালো, গোল ছায়া দেখতে পাওয়া কি কোনো রোগ
· Prothom Alo

চোখের সামনে আমরা অনেক সময় কিছু কালো কালো গোল অংশ ঝাপসা ভাবে দেখতে পাই। অথচ আশপাশ পরিষ্কার। এটা চোখের একটি বিশেষ রোগের কারণে হয়। রোগটির নাম সেন্ট্রাল সেরাস কোরিও রেটিনোপ্যাথি অথবা সেন্ট্রাল সেরাস রেটিনোপ্যাথি। সংক্ষেপে সিএসসিআর বা সিএসআর।
Visit een-wit.pl for more information.
কী এই রোগ
রোগটা সম্পর্কে জানার আগে আমাদের চোখের ভেতরের একটি বিশেষ অংশ সম্পর্কে জানতে হবে। চোখে দেখার পর্দা বা রেটিনার একটি কেন্দ্রবিন্দু আছে, যা অতি সংবেদনশীল ‘ম্যাকুলা’ নামে পরিচিত। মাঝের আরও ছোট্ট সংবেদনশীল অংশটি হলো ‘ফোভিয়া’। যেকোনো বস্তু পরিষ্কার দেখার জন্য চোখের এই অংশ ভালো থাকা খুব দরকার। আমরা যা দেখি, তার আকৃতি-প্রকৃতি, রং ইত্যাদি নির্ধারণ করে এই অংশ, যা ‘কোন’ নামের এক বিশেষ কোষ নিয়ে তৈরি।
এআই–যুগে টিকে থাকতে কী করবেন, পড়ুন কম্পিউটারবিজ্ঞানীর পরামর্শচোখের এই সংবেদনশীল অংশের আশপাশে অনেক রক্তবাহী শিরা আছে। এই শিরা থেকে যদি রক্তের জলীয় অংশ কোনোভাবে লিক করে কোষে জমা হতে থাকে, তখন দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া শুরু হয়। তখন ‘ম্যাকুলা’ অংশের কোষ ফুলে ওঠে, রেটিনা থেকে উঠে আসে আর দৃষ্টি সমস্যা দেখা দেয়।
এ রোগের লক্ষণ কী?
লক্ষণ একটাই, যন্ত্রণাবিহীন ঝাপসা কালো গোল ছায়া দেখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক চোখেই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ক্ষেত্রবিশেষ দুই চোখেও হতে পারে।
কেন হয়?
রোগটা কেন হয়, তার প্রাথমিক কারণ জানা যায়নি। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কারণ বা ঝুঁকি আছে। যেমন
১. হঠাৎ অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম, অনিদ্রা।
২. দীর্ঘদিন নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে স্টেরয়েড ওষুধ সেবন।
৩. অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান।
৪. ডায়াবেটিস।
চিকিৎসা কী
প্রথমত, রোগীকে রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে হবে। বুঝতে হবে, চোখে সংবেদনশীল এলাকায় জলীয় পদার্থ জমেছে বা সহজ কথায় তরল জমেছে। মাটিতে পানি জমে থাকলে আস্তে আস্তে তা শুকিয়ে যায়। তেমনি নতুন করে কোনো শিরা লিক না করলে যেটুকু পানি জমেছে তা ধীরে ধীরে আপনা-আপনিই শুকিয়ে যাবে। তাই ভয়ের কারণ নেই। যেহেতু হঠাৎ দুশ্চিন্তা এ রোগের অন্যতম কারণ, তাই রোগীকে অবশ্যই দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে।
দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ কমানোর ওষুধ, কিছু প্রদাহ নিরোধক চোখের ড্রপ, ভিটামিন সি, তাজা ফলমূল গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন নয়। তবে সুস্থ হতে সময় লাগে। ক্ষেত্রবিশেষ দুই মাসও লাগতে পারে।
অনেকের পক্ষে এই সময় বেশি দীর্ঘ ও কষ্টকর মনে হলে বা অস্বস্তি বেশি হলে চোখের অ্যানজিওগ্রাফি, ওসিটি করার পরে লিক হওয়া এলাকা নির্ধারণ করে স্বল্প তাপের লেজার চিকিৎসা করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিভিইজিএফ ইনজেকশন কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
চোখে শিরা লিক করে পানি জমা সেরে যাওয়ার পরও ভবিষ্যতে এই সমস্যা আবার হতে পারে, এটাও রোগীকে বুঝতে হবে। তাই দুশ্চিন্তা কমানো ও স্ট্রেসবিহীন জীবনযাপনের অভ্যাস করা জরুরি।
সমস্যাটি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আবার হালকাভাবে নেওয়াও উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, এটি চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না নিলে অনেক সময় ভবিষ্যতে দৃষ্টির স্থায়ী সমস্যা হতে পারে।
লেখক: ডা. আহসান কবির, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর