এমবাপ্পেকে কেন স্বৈরাচার বলা হয়

· Prothom Alo

কিলিয়ান এমবাপ্পে কি ফুটবলার, নাকি ফুটবলের ‘স্বৈরাচার’? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য দ্বিতীয় পরিচয়টাই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। সেখানে এমবাপ্পে শুধু গোল করেন না, কোচ বরখাস্ত করেন, খেলোয়াড়কে ক্লাব ছাড়ান, সতীর্থদের পারফরম্যান্স যাচাই করেন, এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও নাকি তাঁর কাছে রিপোর্ট করতে আসেন!

সামরিক পোশাক, মাথায় টুপি, কখনো সিংহাসনে বসা—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বানানো নানা ছবিতে এমবাপ্পে হয়ে উঠেছেন ‘স্বৈরাচারী শাসক’। নাম দেওয়া হচ্ছে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’।

Visit playerbros.org for more information.

এমবাপ্পেকে স্বৈরাচার হিসেবে উপস্থাপনের শুরুটা কোথা থেকে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ২০২৪ সালের একটি ঘটনা এ প্রবণতার পেছনে থাকা কারণগুলোর একটি হতে পারে। সে বছর ফরাসি ইনফ্লুয়েন্সার ও কাবাবের দোকানের মালিক মোহাম্মদ হেন্নির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তাঁর দোকানের একটি স্যান্ডউইচের বর্ণনায় এমবাপ্পের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এমবাপ্পের আইনজীবীরা নামটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল হাস্যরস হয়। এরপরই তাঁকে ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া’ চরিত্র হিসেবে দেখানোর প্রবণতাও জোরালো হয়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফুটবলে এমবাপ্পের কথিত প্রভাব। ২০২২ সালে পিএসজিতে নতুন চুক্তি করার পর সংবাদমাধ্যমে এমন খবর এসেছিল, ক্লাবের খেলোয়াড় কেনাবেচা, কোচ ও ক্রীড়া পরিচালকের মতো বিষয়ে তাঁর প্রভাব থাকবে। এমবাপ্পে অবশ্য তখন স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি একজন ফুটবলারের ভূমিকার বাইরে যাবেন না।

এমবাপ্পের এই ছবিটি কৃত্রিমভাবে বানানো। এই চরিত্রে প্রচুর মিম দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

সেই পুরোনো আলোচনাই হয়তো নতুন করে রসদ পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর আগমনের পর। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এআই নির্মিত ভিডিও ও ছবিতে ‘ডিক্টেটর এমবাপ্পে’ মিম ছড়িয়ে পড়ে আরও বেশি। মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, সতীর্থদের সঙ্গে কথাবার্তা কিংবা সাধারণ কোনো ঘটনাকেও মজা করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সব সিদ্ধান্ত তাঁর নির্দেশেই হচ্ছে।

এবার সেই মিম নিয়েই মুখ খুলেছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ব্যাপারটির এক দিক থেকে তাঁর কাছে মজার। কারণ, অনেকেই যে নিছক হাসি-ঠাট্টার জন্য এসব করেন, সেটি তিনি বোঝেন। কিন্তু ইতিহাসের ভয়াবহ স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনাটা তাঁর কাছে অস্বস্তিকর।

কেন, সেটি শুনুন এমবাপ্পের ভাষ্যেই, ‘যারা মানুষ হত্যা করেছে, লাখো-কোটি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছে, তাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি।’ তাঁর মতে, স্বৈরাচার এমবাপ্পের মিমটি কখনো কখনো মজার হলেও এর মধ্যে মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার ঘাটতিও প্রকাশ পায়।

তবে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের দেওয়া ‘মোবুতু’ ডাকটি আলাদা চোখেই দেখেন এমবাপ্পে। সাবেক জায়ারের স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর নাম থেকে আসা এই ডাক নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই। দেম্বেলেকে নিয়ে হেসে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘ও আলাদা কিছু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেয়েছে! ও তো শুধু মজা করছে।’

এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু

Read full story at source