কক্সবাজার সৈকতে সড়ক নির্মাণে দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানালেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার

· Prothom Alo

অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো। নিজেদের অর্পিত দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করে সমুদ্র ও সৈকত রক্ষায় রাষ্ট্রকে সহায়তা করার জন্য হাইকোর্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশবিষয়ক মানবাধিকার রক্ষাসংক্রান্ত স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার। সম্প্রতি নিজের লিংকডইন অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

Visit umafrika.club for more information.

পোস্টে জাতিসংঘের এই স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটি ভালো খবর এসেছে! দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ একটি আদেশ দিয়েছেন। আদালত সেখানে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।’

সড়কটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) নির্মাণ করা হচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত। পরিবেশের ওপর এই নির্মাণকাজের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো বলেন, এ ধরনের যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে এর পরিবেশগত, সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাবের সামগ্রিক, সমন্বিত, স্বাধীন ও যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ুর ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করাও রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব। তিনি তাঁর বিভিন্ন প্রতিবেদনেও এই বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে মহাসাগর ও মানবাধিকার এবং পরিবেশগত প্রভাবের ওপর তৈরি করা প্রতিবেদনে তিনি এসব বিষয় বিশদভাবে তুলে ধরেছেন।

একই সঙ্গে যাঁরা এই নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই লড়েছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অ্যাস্ট্রিড পুয়েন্তেস রিয়ানো। তিনি মনে করেন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়ার অধিকারের অন্যতম প্রধান অংশ হলো ন্যায়বিচারের সুযোগ থাকা।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) সুগন্ধা-কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধে আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেন। রুলে কক্সবাজার পৌরসভার ওই সড়ক নির্মাণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনে’ কক্সবাজার পৌরসভার ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের বিরুদ্ধে রিটটি দায়ের করে।

Read full story at source