রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যায় জেএমবির দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস পেলেন ৫ জন
· Prothom Alo
এক দশকের বেশি সময় আগে রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) রংপুর অঞ্চলের কমান্ডারসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এই মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামির মধ্যে অপর পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
Visit likesport.biz for more information.
বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী ও লিটন মিয়া ওরফে রফিক। খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে মো. মহাদ্দেস আলী ওরফে দরজি ও চান্দু মিয়া।
২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়ার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন তাঁর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রায় দেন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়।
এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি ২০১৮ সালে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে। এদিকে দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে কারাবন্দী আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর শুনানি শেষে মাসুদ রানা ও লিটন মিয়ার ক্ষেত্রে ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ আর পাঁচজনের (চান্দু মিয়া, ইছাহাক আলী, সরওয়ার হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন ও মহাদ্দেস আলী) ক্ষেত্রে নাকচ করে রায় দেওয়া হলো।
আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী আহসান উল্লাহ, শাহ নেওয়াজ ও মো. আনোয়ার হোসেন শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী, মো. সোলাইমান হাওলাদার ও মীর মনিরুজ্জামান শুনানিতে ছিলেন।
হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল ও পাঁচজনকে খালাস দিয়ে রায় দিয়েছেন বলে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাত আসামি জেএমবি সদস্য, যা চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসেছে। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি কারাগারে আছেন। খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, তা অ্যাটর্নি জেনারেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর নোট দেওয়া হয়েছে।’
ওই মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিজয় ওরফে মো. মহাদ্দেস আলী ওরফে দরজি হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন। তাঁর আইনজীবী শাহ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বিজয়ের নাম আসে। তবে মো. মহাদ্দেস আলীর নামের পাশে বিজয় লিখে তাঁকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মহাদ্দেস আলীর জাতীয় পরিচয়পত্র, চারিত্রিক সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স তথ্যাদি আদালতে দাখিল করেছি। এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি বিজয় টাঙ্গাইলের এক মামলায় বন্দুকযুদ্ধে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট মারা যান। এ ক্ষেত্রে ভুল পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। মো. মহাদ্দেস আলী আসলে ওই বিজয় নন বলে শুনানিতে বলেছেন। আদালত তা গ্রহণ করেছেন।’