নারীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি
· Prothom Alo
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘের সিডও সনদের দুটি ধারার ওপর থেকে বাংলাদেশের সংরক্ষণ প্রত্যাহার এবং সম্পদ-সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নারী অধিকারকর্মী ও বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে নারীর পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন।
সিডও দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা উঠে আসে। সভার শিরোনাম ছিল, ‘সিডও সনদের ধারা-২ এবং ধারা-১৬, ১(গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার কর; নারীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত কর’।
Visit esporist.org for more information.
বক্তারা বলেন, সিডও সনদের ২ নম্বর ধারায় নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১৬(১)(গ) ধারায় বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ৪২ বছর ধরে এ দুটি ধারায় সংরক্ষণ রেখে দিয়েছে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, অর্থনীতিতে নারীর বড় অবদান থাকলেও উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনে তাঁরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সম্পত্তিতে অধিকার নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ায়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ও নাগরিক সমাজের গঠনমূলক অংশীদারত্ব সিডও বাস্তবায়নকে শক্তিশালী করতে পারে। নারীর উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তাঁরা নিরাপদে বাঁচতে ও দ্রুত বিচার পেতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শুধু সিডওর ধারার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিলে হবে না। ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে সংলাপ জরুরি। নারী সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশও শেষ পর্যন্ত এগোয়নি।
সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, জাতীয় সংসদে বৈষম্যবিরোধী আইন পাস হলে সিডওর ওই দুই ধারায় সংরক্ষণ রাখার প্রয়োজন থাকবে না।
সভায় নারী অধিকারকর্মীরা রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনি সুরক্ষা ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।