পিৎজা বানানোর রোবট নিয়ে প্রত্যাশা অনেক, সাফল্য এখনো আধাখেঁচড়া

· Prothom Alo

ডো, সস, চিজ ও পেপারনি—সব উপকরণ দিয়ে পিৎজা তৈরির জন্য আনা দুটি রোবট এখন পড়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের মটো পিৎজা রেস্তোরাঁয় পিৎজা তৈরির জন্য রোবট দুটি আনা হয়েছিল। কিন্তু এগুলোর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পিকনিক গত মে মাসে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রোবট দুটির কারিগরি সহায়তাও বন্ধ হয়ে গেছে।

মটো পিৎজার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লি কিনডেল বলেন, রোবট দুটি ‘মূলত অকেজো’ হয়ে পড়েছে। ক্যাবিনেটের মতো দেখতে যন্ত্র দুটির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এগুলো নিয়ে এখন কী করবেন, তা ভাবছেন কিনডেল। একই সঙ্গে পিৎজা তৈরির রোবট কেনা আদৌ কতটা লাভজনক, সেই প্রশ্নও উঠেছে তাঁর মনে। তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার কারণে আমি জানি না, আবার কোনো অংশীদারত্বে যেতে চাই কি না।’

Visit newsbetting.cv for more information.

পিৎজা তৈরির রোবট ব্যবসায় ব্যর্থতার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। পিকনিক ছাড়াও জুমে ও পাজ্জির মতো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান রোবোটিক হাত ব্যবহার করে পিৎজা তৈরি করত। পিৎজা বিক্রির ভেন্ডিং মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাসিল স্ট্রিটও বন্ধ হয়ে গেছে।

ফাস্ট ফুডকে স্বয়ংক্রিয় করার ক্ষেত্রে পিৎজা তৈরিকে সহজ একটি কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা অনেক কঠিন প্রমাণিত হয়েছে। রোবট খাবার তৈরির খরচ ও সময় কমাতে পারে—এমন আশা থাকলেও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্নটি সামনে এসেছে।

ব্যাংক অব আমেরিকার জ্যেষ্ঠ রেস্তোরাঁ বিশ্লেষক সারা সেনেটর বলেন, ‘কেউ কেউ যেমনটা ভেবেছিলেন, এখন পর্যন্ত আমরা তেমন সাফল্যের গল্প দেখতে পাইনি।’ পাপা জনস ও ডমিনোজের মতো পিৎজা ব্যবসার বড় চেইনগুলোতে ব্যাংক অব আমেরিকার আর্থিক স্বার্থ রয়েছে।

সারা সেনেটর বলেন, খাবার তৈরির রোবট অনেক সময় কিছুটা অদক্ষ হয়। কখনো তারা ভুল জায়গায় উপকরণ ফেলে দেয়। বিপরীতে মানুষ খুব দক্ষতার সঙ্গে পিৎজা তৈরি করতে পারে। রেস্তোরাঁয় রোবট ব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে পিকনিকের ব্যর্থতায় হতাশ হলেও রোবট নিয়ে আশাবাদী মটো পিৎজার প্রতিষ্ঠাতা লি কিনডেল। তিনি এমন একটি ব্যবস্থা চান, যেখানে ক্রেতা একটি কিয়স্কে অর্ডার দেবেন এবং রোবট তাঁর জন্য তাজা পিৎজা তৈরি করবে।

একসময় কিনডেল নিজেই হাতে পিৎজার ডো তৈরি করতেন। কনুইয়ের চোট পাওয়ার পর যন্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবেন তিনি। এখন নিজেই একটি পিৎজা তৈরির রোবট বানাচ্ছেন। যন্ত্রটি বর্গাকার প্যানে পিৎজা তৈরি করবে। এর নকশা থ্রিডি প্রিন্টারের কাজের ধরন থেকে অনুপ্রাণিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের মধ্যে যন্ত্রটির কার্যকর সংস্করণ তৈরি করতে চান কিনডেল।

রোবট ব্যবহারে কর্মীদের চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে যাবে—এমনটা মনে করেন না তিনি। সিয়াটলের টি-মোবাইল পার্কে পিকনিকের রোবট ব্যবহারের আগে পিৎজা তৈরিতে প্রায় ১০ জন কর্মী প্রয়োজন হতো। রোবট ব্যবহারের পর প্রয়োজন হয় দুজনের। তবে অন্য আটজনের চাকরি যায়নি। তাঁরা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্টেডিয়ামের বিভিন্ন জায়গায় পিৎজার প্রচারের কাজে যুক্ত হন।

রোবটের গতি বাড়াতেও কাজ চলছে। কানাডার প্রতিষ্ঠান অ্যাপেট্রনিক্স যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জন গ্লেন কলম্বাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডোনাটসের জন্য ২৪ ঘণ্টা চালানোর উপযোগী একটি রোবোটিক পিৎজা ইউনিট স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে প্রতি মিনিটে একটি পিৎজা তৈরি করা।

বর্তমানে সস দিতে ৯ দশমিক ৫ সেকেন্ড সময় লাগে। অ্যাপেট্রনিক্স এটি ১ দশমিক ৫ সেকেন্ডে নামিয়ে আনতে চায়। পিৎজা কাটার গতিও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে লেজার ও আলট্রাসাউন্ড ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে রোবটের তৈরি পিৎজা আর মানুষের হাতে তৈরি পিৎজার মধ্যে পার্থক্য থাকছে। অ্যাপেট্রনিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নিপুণ শর্মার মতে, বড় চেইন রেস্তোরাঁগুলোর জন্য প্রতিবার একই মানের পিৎজা তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে সারা সেনেটর মনে করেন, রোবট ব্যবহার করা রেস্তোরাঁয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর মতে, রেস্তোরাঁয় মানুষ না রাখা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে ‘মানবিক স্পর্শ’ হারাতে পারে।

এদিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুমের ৩০০টির বেশি পেটেন্ট কিনে নিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার মিসো রোবোটিকস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিচ হাল বলেন, জুমের ধারণা ভালো ছিল, তবে বাজারের সময়ের তুলনায় তারা কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল। এখন সেই প্রযুক্তি নতুন প্রজন্মের রোবট তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।

পিৎজা তৈরিতে রোবট ব্যবহারের দৌড় থেমে যাচ্ছে না। কিনডেলও এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর বিশ্বাস, পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় পিৎজা তৈরির রোবট একদিন তৈরি হবেই। তাঁর ভাষায়, ‘প্রশ্ন হলো, এটি প্রথম কে তৈরি করবে?’

Read full story at source