রাশমিকা কিসে নার্ভাস হন, নিজের ওয়ার্ডরোবের সবচেয়ে দামি আর প্রিয় জিনিস কোনটি
· Prothom Alo
ব্লকবাস্টার সিনেমার নায়িকা আর কোটি ভক্তের প্রিয় মুখ হওয়ার পরও নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি রাশমিকা মান্দানা। আত্মবিশ্বাসী, গ্ল্যামারাস, কিন্তু একই সঙ্গে একেবারে অকপট—এ আন্তরিকতাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্প্রতি ‘ফিল্মফেয়ার’–এর কাছে নিজের ভাবনা ও ফ্যাশন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
ব্লকবাস্টার সিনেমার নায়িকা আর কোটি ভক্তের প্রিয় মুখ হওয়ার পরও নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি রাশমিকা মান্দানাআপনার নিজস্ব স্টাইল সম্পর্কে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কতটা বদলেছে?
রাশমিকা: ফ্যাশন আমার কাছে কথা না বলেও নিজেকে প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ উপায়। সময়ের সঙ্গে আমার স্টাইল অনেক বদলেছে। বেশির ভাগ দিনই আমাকে দেখা যাবে ওভারসাইজড ট্রাউজার, ফিটেড টি-শার্ট, কয়েকটি সাধারণ অ্যাকসেসরিজ আর প্রিয় জুতায়। এই সাজপোশাক যেমন ঝামেলামুক্ত ও আরামদায়ক, তেমনি এটি আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও দারুণভাবে মানিয়ে যায়। যা-ই পরি না কেন, আমি চাই সেটা যেন সেই মুহূর্তে আমার অনুভূতিকে প্রকাশ করে।
ক্রপড টি-শার্ট বা রিল্যাক্সড কো-অর্ড রাশমিকার প্রিয় পোশাককোন পোশাকে আপনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ?
রাশমিকা: ক্রপড টি-শার্ট বা রিল্যাক্সড কো-অর্ড, আরামদায়ক জগার বা ডেনিম, একটি ক্যাপ ও মিনিমাল অ্যাকসেসরিজ।
আত্মবিশ্বাসী, গ্ল্যামারাস, কিন্তু একই সঙ্গে একেবারে অকপট রাশমিকাসুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য তিনটি অভ্যাস, যা আপনি মানেন...
রাশমিকা: নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও ফাংশনাল ওয়ার্কআউট করি; সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাই এবং পর্যাপ্ত ঘুম ও নিজেকে ফিরে পাওয়ার দিকে নজর দিই। আমার কাছে সুস্থ থাকা কেবল সুন্দর দেখানোর বিষয় নয়; বরং প্রতিদিন সেরাটা দেওয়ার মতো শক্তি ও মানসিক প্রস্তুতি ধরে রাখার বিষয়।
জেন-জির নানা শব্দ, ট্রেন্ড—এসব আমি সত্যিই বুঝি না : রাশমিকা মান্দানা‘সোয়ারোভস্কি ক্রকস’-এর জুতা রাশমিকার অত্যন্ত প্রিয়নিজের ওয়ার্ডরোবের সবচেয়ে দামি আর প্রিয় জিনিস কোনটি?
রাশমিকা: কঠিন প্রশ্ন! আমি খুব বেশি বস্তুগত জিনিসের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে ফেলি না। তবে বেছে নিতে হলে সম্ভবত আমি আমার ‘সোয়ারোভস্কি ক্রকস’-এর জুতাজোড়াই বেছে নেব। এটি এমন দুটি ব্র্যান্ডের যৌথ উদ্যোগ, যা আমি সত্যিই খুব পছন্দ করি। এ ছাড়া এটি যেমন স্টাইলিশ, দারুণ আরামদায়কও।
রাশমিকার মতে, কাছে সফলতা মানে নিখুঁত কোনো ভাবমূর্তি গড়ে তোলা নয়কোন গুণটি আপনাকে সবার চেয়ে আলাদা করেছে?
রাশমিকা: আজকের পৃথিবী প্রতিনিয়ত বলে দেয়, আমাদের কেমন হওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ট্রেন্ড আর নানা মতামতের ভিড়ে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা খুব সহজ। আমার কাছে সফলতা মানে নিখুঁত কোনো ভাবমূর্তি গড়ে তোলা নয়; বরং নিজের ও দর্শকের প্রতি সৎ থাকা। মানুষ আন্তরিকতা বুঝতে পারে; আর সেটাই কখনো পুরোনো হয় না।
রাশমিকা মান্দানার কথা, সবার সব মতামত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটার নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আমার কাছেমানুষের চুলচেরা বিশ্লেষণ কীভাবে সামলান?
রাশমিকা: অভিনয়শিল্পী হিসেবে সব সময় মানুষের নজরে থাকতে হয়। তাই নানা রকম বিচার-বিশ্লেষণের মুখোমুখি হওয়াটাই স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা বুঝেছি, সবার সব মতামত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, সেটার নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আমার কাছে। তাই আমি আমার কাজেই মন দিই আর নিজের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করি। আমি জানি, আমার কাজই আমার হয়ে কথা বলবে। সৌভাগ্যবশত, মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা আর সমর্থনের আওয়াজ সব সময় সমালোচনার চেয়ে অনেক বেশি জোরালো।
দুই দিনের আন্তর্জাতিক ফটোশুটে অনন্যা সম্মানী পেলেন ৪ লাখ টাকা, দেখুন ১০টি ছবিরাশমিকার স্বতঃস্ফূর্ত উষ্ণতা, অফুরন্ত প্রাণশক্তি আর নির্ভেজাল ব্যক্তিত্ব তাঁকে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় তরুণ অভিনেত্রীদের একজন করে তুলেছেজেন-জির মধ্যে কোনো সংকোচ ছাড়াই নিজের সত্তাকে তুলে ধরার প্রবণতা জোরদার হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?
রাশমিকা: আমি এটা ভীষণ ভালোবাসি। প্রতিটি প্রজন্ম পরের প্রজন্মকে আরও সাহসী হতে শেখায়। জেন-জি নিজের আলাদা পরিচয়কে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করে, এটা উদ্যাপন করার মতো বিষয়। স্বকীয়তা লুকিয়ে রাখার নয়; বরং গর্বের সঙ্গে বহন করার বিষয়।
রাশমিকা বলেন, স্বকীয়তা লুকিয়ে রাখার নয়; বরং গর্বের সঙ্গে বহন করার বিষয়ক্রিয়েটর কালচার কি তরুণদের নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে?
রাশমিকা: অবশ্যই। আগে সুযোগ অনেক সীমিত ছিল। এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা দেখিয়ে দিয়েছেন, সফল হওয়ার পথ একটাই নয়। মানুষ এখন নিজের অনন্য প্রতিভা ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত হচ্ছে। সফলতার সংজ্ঞাও বদলেছে, এখন ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি নতুন সিনেমা আর প্রতিটি মুক্তিই এখনো রাশমিকাকে নার্ভাস করেঅভিনয়যাত্রার এত বছর পরও কোন বিষয়টা আপনাকে নার্ভাস করে তোলে?
রাশমিকা: প্রতিটি নতুন সিনেমা আর প্রতিটি মুক্তিই এখনো আমাকে নার্ভাস করে। যত বছরই কাজ করি না কেন, প্রতিবারই মনে হয়, হৃদয়ের একটা অংশ মানুষের সামনে তুলে দিচ্ছি। আমার মনে হয়, মনের ভেতরের এই অস্থিরতা বা উত্তেজনা দারুণ একটি ব্যাপার। কারণ, এটা মনে করিয়ে দেয় যে এখনো আমি কাজটাকে কতটা ভালোবাসি।
রোনালদো ও জর্জিনা কেন ড্রয়িংরুমে বিয়ে করলেন, ‘ভোগ’কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরও যা জানালেন