মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আশঙ্কা অধিকারের

· Prothom Alo

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়া সংসদে পাস হলে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের বদলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার।

Visit newsbetting.bond for more information.

আজ রোববার এক বিবৃতিতে অধিকার বলেছে, ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভা অনুমোদিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্যারিস নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাধারণ নাগরিকেরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হলেও তৎকালীন কমিশন এ বিষয়ে নিশ্চুপ ছিল।

অধিকার বলছে, গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছিল। তবে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করায় সেটি ল্যাপসড (মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে বাতিল) হয়ে যায়।

মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, নতুন খসড়া আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশন নিজ উদ্যোগে প্রথমে তদন্ত করতে পারবে না। এর ফলে অতীতের মতো তদন্ত নিরপেক্ষ না হওয়ার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায়মুক্তির আশঙ্কা রয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

সদস্য নিয়োগে সরকারি আধিপত্যের আশঙ্কা

অধিকারের বিবৃতিতে বলা হয়, প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনের সদস্য নিয়োগে সমাজের বহুত্ববাদী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু ২০২৬ সালের খসড়া আইনে প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের বাছাই কমিটিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের দুজন মন্ত্রী, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব রয়েছেন।

এ ছাড়া অন্য চার সদস্যের মধ্যে দুজন রাষ্ট্রপতি এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক মনোনীত হবেন। ফলে বাছাই কমিটির ৯ সদস্যের মধ্যে ৮ জনই সরকার-সংশ্লিষ্ট হবেন বলে দাবি করেছে অধিকার। একই সঙ্গে কমিটিতে নারীর আলাদা প্রতিনিধিত্বের বিধান না থাকাকেও বৈষম্যমূলক বলেছে সংগঠনটি।

অধিকার মনে করে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের তুলনায় নতুন খসড়ায় আনা এসব পরিবর্তন একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। একই সঙ্গে এগুলো প্যারিস নীতিমালার সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, এসব বিষয় সংশোধন করে প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হলে মানবাধিকার কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাড়বে।

মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগ, দিলেন খোলাচিঠি

Read full story at source