টিভি সিরিজ থেকে বাস্তবের খেলোয়াড়
· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রে যখন চলছিল বিশ্বকাপ, তখন দেশটির আরেক পাশে ঘটে গিয়েছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। টিভি পর্দায় অভিনয় করা ফুটবলার থেকে সত্যিকারের ফুটবলারে পরিণত হয়েছেন এক অভিনেতা। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে এল পাসো লোকোমোতিভের হয়ে অভিষেকও হয়েছে তাঁর।
টেড ল্যাসো সিরিজের তারকা এবার বাস্তবের ক্লাবে
‘টেড ল্যাসো’ সিরিজটা দেখা আছে কারও? যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইংল্যান্ডে পাড়ি দেওয়া এক কোচ নেমেছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার সংগ্রামে। সেখানেই রিচমন্ড নামের এক দলকে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য টেড ল্যাসো শুধু একটা সিরিজ না, হয়ে উঠেছিল আবেগের নাম। কারণ, এর আগে টিভি পর্দায় এত সুন্দর করে ‘আন্ডারডগ স্টোরি’ তুলে আনতে পারেনি কেউ। সিরিজের প্রথম তিন সিজন তাই মন ছুঁয়ে গিয়েছিল ভক্তদের।
Visit moryak.biz for more information.
সেই সিরিজেই ড্যানি রোহাস নামের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় দর্শকদের। মেক্সিকো থেকে আসা তরুণ খেলোয়াড় যেমন প্রাণোচ্ছল, তেমনই মাঠের সবচেয়ে পরিশ্রমী তারকা। মাঠের ভেতরে যেমন প্রতিযোগিতায় ছাড় দেন না এক বিন্দু, তেমনি মাঠের বাইরে তাঁর হাসিমাখা মুখ প্রশান্তি এনে দেয় সবাইকে। সেই ড্যানি রোহাস চরিত্রে অভিনয় করা ক্রিস্টো ফার্নান্দেজকে দেখে অনেকেই বলেছিলেন, অভিনয়টা বেশ ভালোই করেন তিনি। কারণ, খেলার দৃশ্য তাঁর অভিনয় দেখে মনে হচ্ছিল যেন অভিনয় নয়, বাস্তবেই খেলছেন তিনি।
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রিকে ঘিরে বার্সা-রিয়ালের ‘এল ক্লাসিকো’টিভির ড্যানি রোহাস এখন বাস্তবের ফুটবলার।বাস্তবেও ফুটবলার ছিলেন ক্রিস্টো
দর্শকেরা আসলে ঠিকই ধরেছিলেন। অভিনয়ে আসার আগে যুব দলে খেলেছেন ক্রিস্টো, পুয়ের্তো রিকোর একটি ক্লাবের মূল দলের অংশও ছিলেন। কিন্তু হাঁটুর চোট তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল ফুটবলের জগৎ থেকে। ফুটবল ছেড়ে তাই মনোযোগ দেন অভিনয়ে। ২০১৬ সালে হলিউডে আসা ক্রিস্টো নিজেকে খুঁজে পান টেড ল্যাসো সিরিজে। সেই সিরিজ যেন তাঁর গল্পই বলেছিল। সিরিজে চোট থেকে ফিরলেও বাস্তবে ফিরতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে স্বপ্নটা তো মরে যায়নি। গত ১০ বছরে অভিনয় করেছেন স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম সিনেমায়, ট্রান্সফরমার্স, সোনিক দ্যা হেজহগ থেকে শুরু করেন ভেনোমের মতো সিনেমায়। সঙ্গে টেড ল্যাসো সিরিজ তো ছিলই। একের পর এক সাফল্য যখন পেয়েছেন বড় পর্দায়, তখন যেন সব ছেড়েছুড়ে মন চাইল আবারও ভালোবাসার কাছে ফিরতে।
ড্যানি রোহাসের ফেরা
২০২৬ সালের শুরুতে আবারও ফুটবলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন ড্যানি রোহাস নামে পরিচিত ক্রিস্টো ফার্নান্দেজ। শুরুটা করেছিলেন মেজর লিগ সকারের শিকাগো ফায়ারের হয়ে। কিন্তু ট্রায়াল মনঃপূত হয়নি তাদের। যে কারণে ফিরিয়ে দিয়েছিল মাঝপথেই। হতাশ না হয়ে ক্রিস্টো যোগ দিলেন দ্বিতীয় বিভাগের দল এল পাসো লোকোমোতিভে। সেখানে সবার মনে ধরল তাঁকে। এক ম্যাচে খেললেনও ৩০ মিনিট। সেই খেলায় মুগ্ধ হয়ে ক্রিস্টোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ করে দলটি। গত ১১ জুলাই ইউএসএল কাপে অভিষেক হয় ক্রিস্টোর। নিউ মেক্সিকোর বিপক্ষে তিনি মাঠে নেমেছিলেন ম্যাচের ৭৯ মিনিটে। ১১ মিনিটে তেমন কিছু করতে না পারলেও নতুন করে নিজের স্বপ্নটা খুঁজে পেয়েছেন, এর থেকে বড় আর কী আছে।
১১ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন ক্রিস্টো।অতুল মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গানের একটি লাইন ছিল, ‘সব বেচো কিন্তু/ বন্ধু তোমার লাল টুকটুকে স্বপ্ন বেচো না’। ৩৫ বছর বয়সে এসেও ক্রিস্টো ফার্নান্দেজ তাঁর স্বপ্ন বিক্রি করেননি। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা পূরণ করেছেন। এখন কত দূর যেতে পারবেন, তা বলে দেবে সময়ই।
প্রথম বিভাগে উঠতে না পারা দল খেলবে ইউরোপা লিগে