শহীদুল জহিরের ‘ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প’ নিয়ে পাঠচক্র

· Prothom Alo

চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজিত হিরন্ময় কথকতা সিরিজ পাঠচক্রের ৩৩তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৪ আগস্ট। এবারের আলোচ্য বই ছিল লেখক শহীদুল জহিরের গল্পগ্রন্থ ‘ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প’।

মাওলা ব্রাদার্স থেকে ২০০৪ সালে প্রকাশিত এই গল্প সংকলনে রয়েছে মোট সাতটি গল্প। গল্পগুলোর পটভূমি কখনো পুরান ঢাকার মহল্লা ও নগরজীবন, কখনো বাংলাদেশের গ্রাম ও প্রান্তিক জনপদ। মানুষের স্বপ্ন ও সেই স্বপ্নের ভাঙন, প্রেম ও ভালোবাসার অনুসন্ধান, সামাজিক সম্পর্ক, নিঃসঙ্গতা, পীড়ন, পতন এবং জীবনের ছোট ছোট অথচ গভীর অনুভূতি এই গল্পগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সংকলনের গল্পগুলো হলো ‘কোথায় পাব তারে’, ‘আমাদের বকুল’, ‘মহল্লায় বান্দর, আব্দুল হালিমের মা এবং আমরা’, ‘ইন্দুর-বিলাই খেলা’, ‘প্রথম বয়ান’, ‘ডলু নদীর হাওয়া’ এবং ‘আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস’। বন্ধুরা বইয়ের প্রতিটি গল্প পাঠ করে শোনান। পরবর্তী সময় বই নিয়ে আলোচনা ও তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

Visit playerbros.org for more information.

সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘এই বইটির অন্য সব গল্পের মধ্যে “ডলু নদীর হাওয়া” অন্যতম মনে হয়েছে। এটির কেন্দ্রীয় চরিত্র আহম্মদ তৈমুর আলী চৌধুরী এবং তার স্ত্রী সমর্ত বেগম, যার আসল নাম এলাচিং। তৈমুর তাঁর যৌবন বয়সে এলাচিংকে বিয়ে করে। এলাচিং পাহাড়ি মেয়ে, মগ সম্প্রদায়ের। তাঁদের দাম্পত্য জীবনের মধ্যে প্রেম, সম্পর্ক, স্মৃতি, সন্দেহ এবং পুরোনো জীবনের নানা ছায়া জড়িয়ে থাকে। এলাচিংয়ের অতীতের সঙ্গে সুরুত জামাল নামের একজন মানুষের সম্পর্কও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গল্পের সবচেয়ে রহস্যময় উপাদান হলো চিনি ও বিষের শরবত।

‘একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে দুটি গ্লাসের একটিতে চিনি মেশানো শরবত আর অন্যটিতে বিষ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু কোনটি বিষ, কোনটি শরবত, সেটি নিয়ে অনিশ্চিত এক গল্প তৈরি হয়। এই গল্পটি সরাসরি হত্যার রহস্যের গল্প না হলেও বরং দীর্ঘ দাম্পত্যের ভেতরে জমে থাকা প্রেম, সন্দেহ, অতীত, অপরাধবোধ এবং মৃত্যুচেতনাকে রহস্যের আবরণে তুলে ধরে।’

পাঠচক্র শেষে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা

বন্ধু প্রমি বড়ুয়া বলেন, ‘বইটির প্রায় গল্প পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। এমন কিছু গল্পের কাহিনি বেশ অদ্ভুত মনে হয়েছে। “আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস”গল্পটি অনেকটা ভিন্নধর্মী মনে হয়েছে। একটি ছোট মহল্লার জীবন থেকে শিল্পায়ন, পুঁজির বিস্তার, ব্যবসা এবং মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রবেশ দেখানো হয়। গল্পটির বর্ণনাভঙ্গিও প্রচলিত গল্পের মতো নয়। একই নামক ‘আমরা’ কখনো শিশু, কখনো যুবক, কখনো বৃদ্ধের মতো আচরণ করে। ফলে ব্যক্তিগত জীবনের বদলে সমষ্টিগত মানুষের ইতিহাস সামনে আসে।’

বন্ধু তানভীর এলাহী বলেন, ‘নতুন বন্ধু হিসেবে বন্ধুসভার পাঠচক্রে আমার প্রথম আসা। বেশ ভালো লেগেছে। সবার সঙ্গে পরিচিত হবার পাশাপাশি চমৎকার একটি বই সম্পর্কে জানতে পারলাম। লেখক প্রতিটি গল্প বেশ ভালোভাবে বর্ণনা করেছেন। সব গল্পই পড়ে ভালো লেগেছে।’

পাঠচক্রের সমন্বয়কারী ছিলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী, তাফসিরুল ইসলাম ও তিশমা দাস। আরও উপস্থিত ছিলেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শান্ত বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফ উল হক, বন্ধু আশরাফ আরাবি, রুবাইয়াত আলম, রাজু পাল, আবদুল্লাহ আল মাসুম, শাহরিয়ার আহমেদ, রোকসানা জেয়াছমিন, শিরিন আক্তার, নাফিসা লালিয়াত, লুহনাত সাহালা, আলভীর হোসেন, রাতুল দত্তসহ অন্য বন্ধুরা।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা

Read full story at source