বিলাসী জীবনযাপনে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিঙ্গাপুর

· Prothom Alo

বিলাসী জীবনযাপনের ব্যয়ের দিক থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে সিঙ্গাপুর। বিশ্বজুড়ে ঘড়ি ও গয়নার মতো বিলাসপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিলাসী জীবনযাপনের ব্যয় আরও বেড়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জুলিয়াস বেয়ার গ্রুপের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে জুরিখ, লন্ডনকে পেছনে ফেলে শহরটির উত্থান। ২০২০ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিয়েছে মোনাকো। তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে হংকং ও লন্ডন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

Visit betsport24.es for more information.

জুলিয়াস বেয়ার বলেছে, সুইস মুদ্রা ফ্রাঁ শক্তিশালী হওয়ার কারণে জুরিখ তিন ধাপ এগিয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সুইজারল্যান্ডের সুনাম আছে। সেই সঙ্গে অনিশ্চিত সময়ে সুইস ফ্রাঁকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জুরিখ শহরের এই অগ্রগতি।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ দেশটির আবাসন ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতি উচ্চ মূল্য। সূচকে এই দুই খাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরি ডলারের উচ্চ মূল্যের কারণেও তাদের পক্ষে শীর্ষস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। সূচকে মার্কিন ডলারের ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরের জীবনযাপনের ব্যয় তুলনা করা হয়।

জুলিয়াস বেয়ারের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান গ্যাটিকার প্রতিবেদনে বলেন, ‘২০২৬ সালে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্ব ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চয়তার মাত্রা বেশি। এমন পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল শহর ও দেশগুলো মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।’

জুলিয়াস বেয়ারের লাইফস্টাইল ইনডেক্সে ২০ ধরনের বিলাসপণ্য ও সেবার মূল্য বিশ্লেষণ করে ২৫টি শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে আবাসন, প্রাইভেট কার, উচ্চ শ্রেণির বিমানভাড়া, স্কুলের টিউশন ফি ও বিলাসবহুল খাবারের (ডিগাস্টেশন ডিনার) খরচ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের মালিক ৩৬০ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপটি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে অতি সম্পদশালী ব্যক্তিদের উচ্চমানের জীবনযাত্রা বজায় রাখার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন ডলারের হিসাবে এ বছরের সূচক গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এতে সোনার দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবও স্পষ্ট। ফলে গয়নার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ঘড়ির ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

এদিকে তালিকায় দুবাই শহর নেমে এসেছে ১৪তম স্থানে। জুলিয়াস বেয়ার বলেছে, এর অর্থ এই নয় যে শহরটি আগের তুলনায় সস্তা হয়েছে, বরং অন্য শহরগুলোর ব্যয় আরও দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় দুবাইয়ের অবস্থান পিছিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও উল্লেখ করেছে, সূচকের তথ্য সংগ্রহের পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে ওই অঞ্চলের বাসিন্দা এবং বৈশ্বিক নাগরিক ও পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আগের মতো অতটা স্পষ্ট নয়।

এ বছরের তালিকায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে সিডনির। শহরটি ছয় ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। জুলিয়াস বেয়ারের মতে, শক্তিশালী অস্ট্রেলীয় ডলার ও দেশটির ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে আমদানিনির্ভর বিলাসী পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় সিডনির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

তিন বছরের মধ্যে এবারই প্রথম উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো শহর শীর্ষ ১০-এ স্থান পায়নি। এর প্রধান কারণ অন্যান্য প্রধান মুদ্রার সাপেক্ষে মার্কিন ডলারের মূল্য কমে যাওয়া, যদিও স্থানীয় বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

উত্তর আমেরিকায় সম্পদ সঞ্চয়ের প্রবণতা ভালো। জরিপে অংশ নেওয়া উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাঁদের সম্পদ মূল্য উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে।

Read full story at source