ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কারাগারে ৬৫ বছর বয়সী শিক্ষক
· Prothom Alo
গোপালগঞ্জে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগে একটি কওমি মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে কাশিয়ানী উপজেলার একটি মাদ্রাসার কক্ষে ওই ঘটনার পর রাতে শিশুটির মা ওই শিক্ষককে আসামি করে থানায় মামলা করেন। রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Visit newssport.cv for more information.
আসামি মুস্তাফিজুর রহমান (৬৫) কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি যে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক, সেটি এতিমখানাও।
শিশুটির পরিবারের ভাষ্য ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিফিনের সময় বিস্কুট ও চকলেট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মাদ্রাসায় নিজের কক্ষে ডেকে নেন মুস্তাফিজুর। পরে কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও একইভাবে একাধিকবার শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন ওই শিক্ষক। বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। সবশেষ শুক্রবারও একই কাজ করেন ওই শিক্ষক। এদিন দুপুরে শিশুটি বাড়ি ফিরে শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যথার কথা মাকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং রাতে কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন।
শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়ে কয়েক দিন ধরে টয়লেটে যাওয়ার সময় কান্নাকাটি করে। ব্যথার কথা জানায়। আমি ভাবতাম, পানি কম খাওয়ার কারণে হয়তো এমন হয়েছে। গতকাল দুপুরে টয়লেট থেকে আসার পর আমাকে বলছে, ‘মা, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, না হলে আমি মারা যাব। তখন তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, মাদ্রাসার ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। আমি রাতে মেয়েকে থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা করি। ওই শিক্ষক এর আগেও এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিয়েছেন।’
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২৩)-এর ৯(১) ধারায় শুক্রবার রাতে মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই আসামি মুস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।