ব্রাজিল 'ভালো' খেলেছে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

· Prothom Alo

ম্যাচের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের পার্থক্য ছিল ৮০ ধাপ। ব্রাজিল পঞ্চম এবং হাইতি ৮৫ তম। এত বিশাল পার্থক্যে শক্তিশালী দলের শক্তি ও পরিপক্বতা যাচাই করা কঠিন। তবে কতটা দাপটের সঙ্গে জিতেছে, সেটি মূল্যায়ন তো করাই যায়। আর এই বিবেচনায় হাইতির বিপক্ষে কিছু দুশ্চিন্তাসহ ১০০–তে ১০০ পেয়েছে ব্রাজিল।

Visit extonnews.click for more information.

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ঘাটতি ছিল। রক্ষণে ইবানিয়েজ, মিডফিল্ডে কাসেমিরো ও পাকেতা এবং ফরোয়ার্ড লাইনে ইগর থিয়াগোর পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

আজ সেসব বিবেচনায় এনে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইবানিয়েজের জায়গায় দানিলো এবং ইগর থিয়াগোর জায়গায় মাতেউস কুনিয়া। মিডফিল্ডে আরেকবার সুযোগ পান কাসেমিরো ও পাকেতা।

ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে প্রথমার্ধে পরিবর্তনগুলো দারুণভাবে কাজ করেছে। কুনিয়া তো ছিলেনই, ডান প্রান্তে দানিলোর ভালো পারফরম্যান্সের কারণেও উইং নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।

তবে এই ম্যাচেও প্রথমার্ধের শুরুতে পাকেতা ও কাসেমিরোর সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুজনকেই কিছুটা বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছে। এমনকি বল হারানোর পর বল দখলের তীব্র চেষ্টাও দেখা যায়নি।

এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কুনিয়া

তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে পাকেতাও ভালো খেলতে শুরু করেন। ব্রুনো গিমাইরাসও মাঝমাঠে বড় ভূমিকা রাখেন। তবে উদ্বেগের জায়গা রয়ে গেছে কাসেমিরোকে ঘিরে। প্রথমার্ধে অন্তত দুবার সহজে পরাস্ত হন, যা ব্রাজিলের মাঝমাঠ নিয়েও প্রশ্ন তোলার মতো।

তবে এই ম্যাচে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কুনিয়া। প্রথম গোলটি সৌভাগ্যবশত পাওয়া। কিন্তু দ্বিতীয় গোলটি ছিল দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের জাদু। ডায়মন্ড ফরমেশনে কুনিয়াকে একদম সামনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের আক্রমণে ভারসাম্য ও গতিশীলতা এনে দিয়েছে। বিশেষ করে বাঁ প্রান্তে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। আক্রমণে ওঠার পাশাপাশি কুনিয়া সতীর্থদের জন্য জায়গাও তৈরি করেছেন।

ব্রাজিল ভালো খেলেছে, মনে করেন আনচেলত্তি

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দেখিয়ে দিয়েছেন, মরক্কোর বিপক্ষে তাঁর ভালো খেলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। হাইতির বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, সমাধান খুঁজে বের করছেন এবং দলের হয়ে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। প্রথম দুটি গোলেই অবদান ছিল তাঁর। তবে ভিনির অতিরিক্ত বল পায়ে রাখার বিষয়টি আনচেলত্তিকে কিছুটা বিরক্ত করতে পারে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ছিল অনেক বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষানির্ভর দল। একপর্যায়ে মাঠে ছিলেন একসঙ্গে চার ফরোয়ার্ড। ভিনিসিয়ুস ও রায়ানের সঙ্গে যোগ দেন এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।

আপাতত এই জয়ে খুশি ব্রাজিল সমর্থকেরা

তবে একসঙ্গে এই চারজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া বা কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে খুব বেশি কিছু বোঝার সুযোগ মেলেনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফাঁদে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে দাপটও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ‘সেলেসাও’রা।

এই ম্যাচে পাকেতা থিতু হওয়ার পর দলের সৃজনশীলতা অনেক বেশি ছিল। সমষ্টিগত ফুটবলও তখন ভালো ছিল। পাকেতা নেমে যাওয়ার পর দল জয়ের পথেই থাকলেও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও গুছিয়ে আক্রমণ গড়ার দিকটি আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

দিন শেষে ৩-০ গোলের জয় ব্রাজিলের জন্য স্বস্তির। তবে এই ম্যাচেও কিছু ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো। ভুল পাস ছিল এবং বল নিয়ন্ত্রণেও কিছু ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি হাইতির মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে যতটা গোল–উৎসব হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি।

দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পুরোপুরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার সুযোগটি শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। এমন ম্যাচে আনচেলত্তি দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে না হেঁটে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আদর্শ মঞ্চ বানাতে পারতেন।

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের এটি ‘পূর্ণ নম্বরের’ পারফরম্যান্স নয়, আবার হতাশায় মুষড়ে পড়ার মতোও নয়। মাঝামাঝি মানের একটি জয়, যা প্রয়োজনীয় ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।

হাইতিকে তিন গোলে উড়িয়ে জাগল ব্রাজিল

Read full story at source