প্রাক্তনকে ভুলতে কত দিন লাগে? কীভাবে মনের ক্ষত দ্রুত দূর হয়

· Prothom Alo

জেন-জির মানসিক সমস্যার মধ্যে একেবারে প্রথম দিকেই আছে ‘এক্স’–এর ‘হ্যাংওভার’ না কাটা। তাঁরা প্রায়ই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হচ্ছেন অতীতের সম্পর্ক বা ট্রমা থেকে পুরোপুরি বের না হতে পারার জন্য। ব্রেকআপ—এটা শুধু একটা সম্পর্কের শেষ নয়, অনেক সময় বুকের ভেতর চেপে বসে থাকা একধরনের তীব্র চাপা শোক। কেননা সম্পর্কের মানুষটার সঙ্গে সঙ্গে আপনি অভ্যাস, স্মৃতি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এ রকম নানান কিছু হারান। আর মনোবিজ্ঞান বলছে, এই কষ্টটা খুবই তীব্র, স্বাভাবিক আর বাস্তব।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

কত দিন লাগে প্রাক্তনকে ভুলতে?

গবেষণায় দেখা গেছে, যার সঙ্গে আপনি গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাকে পুরোপুরি ভুলতে গড়ে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে। হ্যাঁ, জেন-জির কাছে বিষয়টা অবাক লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভালোবাসা থেকে বের হওয়া ‘সুইচ অফ’ করার মতো সহজ বিষয় নয়।

কেন এত কঠিন লাগে?

বিচ্ছেদ মানে নিজেকে ‘ইমোশনালি’ প্রত্যাহার করে নেওয়া। নিজেকে এমন একজন ব্যক্তির থেকে আলাদা করা, যিনি একসময় আপনার পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন।
বিচ্ছেদের পর আপনি কীভাবে অতীত ভুলে স্বাভাবিক জীবনের স্রোতে ফিরিয়ে আসবেন—এ বিষয়ে একটি গবেষণায় ৮৪টি ভিন্ন আচরণ পাওয়া গেছে। আর এসব আচরণ স্বাস্থ্যকর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অত্যন্ত উপযোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো—

১. নিজের দিকে ফিরে আসা
বিচ্ছেদের পর মানুষ ধীরে ধীরে নিজের কাজ, নিজের আগ্রহ, নিজের জীবনের দিকে মন দেয়। ‘আমি কে?’, ‘আমি নিজের জীবন থেকে কী চাই?’—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়।

২. নিজের যত্নে ব্যস্ত থাকা
বিচ্ছেদের পর অনেকে কাজ, শখ, নিজের যত্ন, নতুন কিছু শেখা ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এসব মনকে প্রাক্তন ও বিচ্ছেদের চিন্তা থেকে সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

৩. কাছের মানুষের সাহায্য নেওয়া
বন্ধু, পরিবার বা পেশাদার কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা। এটা অতীতের ট্রমা থেকে সেরে ওঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে

একই চিন্তায় ঘুরপাক খাওয়া। ‘কেন হলো?’, ‘আমি কী ভুল করেছি?’, ‘সে এখন কী করছে?’, ‘সে কি অন্য কারও সঙ্গে ভালো আছে?’ এই চিন্তাগুলো বারবার করলে কষ্ট কমে না, বরং বাড়ে। এই চিন্তার দুষ্টচক্র সবচেয়ে ক্ষতিকর। এখান থেকেই নিজের ক্ষতি করার মতো ধারণা তৈরি হয়।

কী করলে দ্রুত সেরে ওঠা যায়?

১. ফোকাস রাখুন নিজের ওপর

নিজের যত্ন নিন। নিজের পছন্দের কাজ করুন। নিজের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ, বন্ধুত্ব বাড়ান।

২. নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন

যেটা অনুভব করছেন, সেই অনুভূতিটা স্বীকার করে নিন। অনুভূতি থেকে পালাবেন না। জোর করে কিছু ভোলার চেষ্টা করবেন না। তাতে ভোলার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়বে। স্বাভাবিকভাবে নিজের সময় ও পরিস্থিতি মেনে নিন। স্বীকার করুন। এরপর সেটা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠুন।

৩. সামনের দিকে তাকান

বিচ্ছেদ মানে কেবল জীবনের একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। সেই সঙ্গে সামনের অধ্যায় আপনি আরও ভালো করে যাতে লিখতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও নিয়ে আসে বিচ্ছেদ।

৪. নিজের পরিচয় নতুন করে তৈরি করা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘এই সম্পর্ক ছাড়া আমি কে?’ সেরে ওঠার পরবর্তী ধাপে আপনি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকেন। আর গবেষণা জানাচ্ছে, আপনার জীবনের খারাপ অভিজ্ঞতাই আপনার ভেতরের সেরাটা বের করে আনতে অনেক সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘নতুন আপনি’ ধারণায় আপনি নিজের সেরা ভার্সন হওয়ার যাত্রায় অনেকটাই এগিয়ে যান। কেননা এরপর আপনি নিজের শক্তি, প্রতিরোধব্যবস্থা আর প্রচেষ্টার এক অন্যরূপ দেখতে পান। অনেক সময় আপনার যে অস্তিত্ব নিজের কাছেই অচেনা ছিল, সে এসে ধরা দেয় বিচ্ছেদের পরবর্তী অধ্যায়ে।

ব্রেকআপ কষ্ট দেয়, এটা স্বাভাবিক। তবে এটা আপনাকে ভেঙে ফেলে না। বরং নিজেকে নতুন করে জানার, চেনার, গড়ে তোলার এটা একটা সুযোগ নিয়ে হাজির হয়। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগান!

সূত্র: সায়েন্স ফোকাস

কী আছে পিতা–মাতার ভরণপোষণ আইনে

Read full story at source