অবশেষে আলীকদমের দুর্গম কুরুকপাতায় চালু হলো অস্থায়ী ক্লিনিক

· Prothom Alo

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে অস্থায়ী ক্লিনিক চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাম ও রুবেলা উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে আজ শনিবার সকালে এ ক্লিনিক চালু করা হয়। কুরুকপাতা বাজারসংলগ্ন মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে এখন শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। সরেজমিনের পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ফজলে রাব্বি এ নির্দেশ দেন।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) মো. হানিফ বলেন, ক্লিনিকটিতে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। দুজন চিকিৎসক, দুজন নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

Visit turconews.click for more information.

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. হাসান বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৭ জন, লামা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩ জন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১ জনসহ মোট ৩১ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। অনেকেই টাকার অভাবে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে পারেন না। ওই এলাকা থেকে হাসপাতালে এলে অন্তত ১২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পার হতে হয়। এরপর ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, দুর্গম পাড়াগুলোতে বহু শিশু চিকিৎসার বাইরে রয়েছে। আর্থিক সংকট ও যোগাযোগ দুর্ভোগের কারণে তাদের হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ক্রাতপুং ম্রোর এ কথার অবশ্য প্রমাণ মিলেছে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে মেনয়ুং চেয়ারম্যানপাড়া ও নেপিউপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই শিশুদের মধ্যে জ্বর ও হামের উপসর্গ রয়েছে। তাঁদের একজন রুইলুই ম্রো (৭২)। তাঁর চার নাতির সবার শরীরে জ্বর ও হামের উপসর্গ রয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই বলে তিনি বাড়িতেই নাতিদের পরিচর্যা করছেন।

রুইলুই ম্রো বলেন, আট দিন ধরে চার নাতির জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ির মতো উঠেছে। কিছু খেতে চায় না। বড় নাতির বুক জ্বলছে, তাই ঠান্ডা পানিতে কাপড় ভিজিয়ে লাগিয়ে দিচ্ছি। ঠান্ডা পানি লাগলে স্বস্তি পায়।

স্থানীয় বাসিন্দা উমেশৈ ম্রো বলেন, প্রতি পরিবারে এক-দুজন করে ১৬টি শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত। শিশুদের প্রচণ্ড জ্বর, কারও গায়ে ফুসকুড়ির মতো উঠেছে। উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা করার মতো টাকাপয়সা কোনো পরিবারের নেই। এ ছাড়া এত দূর পথ হেঁটে অসুখে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে যাওয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

দুর্গম এলাকা, ১২ কিলোমিটার যেতে হয় পায়ে হেঁটে

আলীকদম উপজেলা সদর থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ার দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। আর নেপিউপাড়ার দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। আলীকদম-জানালিপাড়া-পোয়ামুহুরি সড়ক ধরে ২৩ কিলোমিটার কুরুকপাতা বাজার পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া যায়। এরপর মাতামুহুরী নদী পার হয়ে আরও ১২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে মেনয়ুনপাড়ায় যেতে হয়। অন্য গাড়িগুলোর দূরত্বও এর কাছাকাছি। সেখান থেকে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য অনেকের নেই।

এ দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি সেখানে যান। এ সময় তিনি বলেন, ‘সারা দেশে হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কুরুকপাতায়ও কিছুটা বেড়েছে। এ জন্য কুরুকপাতা বাজারে অস্থায়ী ক্লিনিক খোলা হয়েছে। হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এখানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাম-রুবেলা প্রতিরোধমূলক টিকাদান কর্মসূচির কাজও চলমান থাকবে।’

Read full story at source