এক ঘণ্টায় ৭ মিথ্যা দাবি করেছেন ট্রাম্প, অভিযোগ ইরানের স্পিকারের
· Prothom Alo

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে হুঁশিয়ারে উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। নৌ অবরোধ ‘পুরোদমে’ বহাল থাকবে বলে ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই গালিবাফ এ হুঁশিয়ারি দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ইরানের অনুমোদন সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নির্ধারিত পথে জাহাজ চলাচল করবে। তিনি আরও বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি আর খোলা থাকবে না।’
Visit afnews.co.za for more information.
চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকুতে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণভাবে খোলা’ থাকবে বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর গালিবাফ এ হুমকি দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও নৌপরিবহন সংস্থার নির্ধারিত পথে যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকুতে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।’
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে তাদের ‘লেনদেনা’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। তবে তিনি দাবি করেন, মূল জটিল বিষয়গুলো ইতিমধ্যেই আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার ‘বোমা হামলা শুরু করতে পারে’। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমি এটাকে বাড়তে দেব না, কিন্তু (ইরানের বন্দরে) অবরোধ থাকবে। সুতরাং আপনাদের ওপর অবরোধ থাকছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের আবার বোমা ফেলা শুরু করতে হতে পারে।’
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা বলে তারা যুদ্ধে জেতেনি, আলোচনাতেও কোনো অগ্রগতি করতে পারবে না। হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে কি না এবং এর নিয়ম কী হবে, তা নির্ধারণ হবে মাঠের বাস্তবতায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়।’
গালিবাফ আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এক ঘণ্টার মধ্যে ‘সাতটি দাবি’ করেছেন, যেগুলোর সবই ‘মিথ্যা’। তবে ট্রাম্পের ঠিক কোন দাবিগুলোর বিষয়ে বলছেন, তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি গালিবাফ।
হরমুজ কি পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিকল্প
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এ পথে আনা–নেওয়া করা হয়। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই মাস এই প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেলের দাম ও সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েছে। এখন ইরান প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু জাহাজ কোম্পানি ‘আরও স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।
প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখন অনেকটা ‘পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো’ কাজ করছে। অর্থাৎ এটি এমন একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টিকারী অবস্থানে রয়েছে, যা বড় শক্তিগুলোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিষয়ে ট্রাম্প বনাম ইরান
ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার বলেছেন, একটি শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’—অর্থাৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে খননযন্ত্র দিয়ে অপসারণ করবে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছে, আমরা কীভাবে নিউক্লিয়ার ডাস্ট নেব? আমরা ইরানে গিয়ে তাদের সঙ্গে মিলে বড় বড় খননযন্ত্র দিয়ে তা সংগ্রহ করব।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কখনোই কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম পাঠানোর বিষয়টি কখনোই আলোচনায় উত্থাপন করা হয়নি।