কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট, ভোগান্তি চরমে

· Prothom Alo

কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও সরবরাহ-স্বল্পতায় ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের বেশির ভাগেই পেট্রল ও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার। বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার লিটার।

Visit rouesnews.click for more information.

জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ঈদের ছুটিতে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অধিকাংশ স্টেশনে ডিজেল সীমিত আকারে পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেন প্রায় নেই বললেই চলে। কয়েকটি স্টেশন আংশিক খোলা থাকলেও বেশির ভাগই বন্ধ।
সংকটের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একেকটি মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার বেশি পেট্রল দেওয়া হচ্ছে না, তা-ও সব স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বাসিন্দা মোটরসাইকেলচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগের দিন থেকেই তাঁর এলাকায় পেট্রল নেই। প্রয়োজনের তাগিদে সদর উপজেলায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাননি। অনেক স্টেশন বোতলে পেট্রল দিচ্ছে না, আবার যাঁরা বাইক নিয়ে আসছেন, তাঁদেরও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দূরপাল্লার যানবাহন ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ফিলিং স্টেশন ও জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠিত মনিটরিং টিম নিয়মিত বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

Read full story at source