মানুষের চোখের পলক বারবার পড়ে কেন
· Prothom Alo

ধরো, তুমি সকালে স্কুলে যাচ্ছ। যাওয়ার পথে দমকা হাওয়া উঠল, সেই সাথে দেখতে পেলে তোমার সামনে ধুলা উড়ছে। হঠাৎ খানিকটা ধুলা তোমার চোখে এসে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে তোমার চোখ বন্ধ হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে তুমি সবকিছু আবার ঠিকঠাক দেখতে পাবে। কিন্তু তোমার চোখ তখন কিছুটা জ্বালাপোড়া করতে পারে। এ সময় বারবার তোমার চোখের পলক পড়তে পারে। একসময় তুমি অনুভব করবে যে অল্প সময়ের মধ্যে তুমি অনেকবার চোখের পলক ফেলেছ। অথচ তোমার চোখ একদম ব্যথা করছে না। তাহলে কেন বারবার চোখের পলক পড়ল?
প্রতিদিন আমাদের চোখ অসংখ্যবার পলক ফেলে, কিন্তু আমরা খেয়াল করি না। প্রতিবার তুমি যখন চোখের পলক ফেলছ, তা শুধু এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময়ের জন্য পড়ছে। এ ছাড়া কোনো কিছু পড়া অথবা কথা বলার সময় আমরা সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি পলক ফেলি।
Visit mchezo.life for more information.
চোখের পলক কেন পড়ে?
আমাদের চোখের মণি বা কর্নিয়া সব সময় ভেজা থাকা প্রয়োজন। আমরা যখন চোখের পলক ফেলি, তখন চোখের পাতা থেকে একধরনের তরল (অশ্রু) গ্রন্থি চোখের উপরিভাগে ছড়িয়ে পড়ে। এটি চোখকে শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং দৃষ্টি পরিষ্কার রাখে। চোখকে ধুলাবালু ও ময়লা-আবর্জনা থেকে রক্ষা করার জন্য চোখের পলক ফেলা জরুরি। প্রতিবার পলক ফেলার সময় চোখের মধ্যে থাকা সব ধুলা-ময়লা চোখের কোণে জমা হয়। মাঝেমধ্যে ময়লায় কিছু অংশ চোখের পানির সঙ্গে বের হয়ে আসে।
বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার পলক ফেলেন। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ বার পলক ফেলেন। যদি তুমি প্রতি রাতে ৮ ঘণ্টা করে ঘুমাও, তাহলে সম্ভবত জেগে থাকা অবস্থায় দিনে প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ থেকে ১৯ হাজার ২০০ বার পলক ফেলো।
এটি একটি অনুমান। কেউ কম পলক ফেলে, কেউ বেশি। যতক্ষণ না তোমার পলক ফেলার হার তোমার জীবনে সমস্যা তৈরি করছে, ততক্ষণ চিন্তার কিছু নেই।
তবে কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে পলক পড়ার হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, যার ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
লাশের ব্যাগে চোখ খুলেছিলেন টিমশা, পরিবার পেল ৩.২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণঅতিরিক্ত চোখের পলল ফেললে কী ক্ষতি?
অতিরিক্ত পলক ফেলা বিরক্তিকর হতে পারে, তবে এটি খুব কমই কোনো গুরুতর সমস্যার কারণে ঘটে। যখন এটি হয়, তখন এটি একটি স্নায়বিক সিনড্রোমের অংশ এবং সাধারণত অন্যান্য স্নায়বিক লক্ষণ থাকে।
কয়েকটি স্নায়বিক রোগের কারণে অতিরিক্ত চোখের পলক পড়তে পারে। এগুলো হলো উইলসন রোগ, মাল্টিপল স্কেলেরোসিস ও ট্যুরেট সিনড্রোম।
অতিরিক্ত পলক ফেললে চোখ ক্লান্ত হয়ে যায়, যার ফলে চোখের ওপর চাপের সৃষ্টি হতে পারে। তা ছাড়াও খুব বেশিক্ষণ ধরে একই জিনিসের দিকে মনোযোগ দেওয়ান কারণেও চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
পশু-পাখিরাও কি মানুষের মতো বারবার চোখের পলক ফেলে?
প্রাণী ও পাখিরা তাদের চোখ লুব্রিকেট ও পরিষ্কার করার জন্য পলক ফেলে, কিন্তু তারা সাধারণত মানুষের মতো একই প্রক্রিয়ায় পলক ফেলে না। মানুষের চোখের পলক অনিচ্ছাকৃত এবং ৫-১০ সেকেন্ড অন্তর অন্তর ঘটে, যা কর্নিয়াকে পরিষ্কার করে। পাখি ও সরীসৃপদের ‘তৃতীয় চোখের পাতা’ থাকে যাকে নিক্টিটেটিং মেমব্রেন বলা হয়। এটি একটি স্বচ্ছ স্তর যা চোখের ওপর অনুভূমিকভাবে চলে, যা তাদের পলক ফেলার সময়ও পরিষ্কার টিস্যুর মধ্য দিয়ে দেখতে সক্ষম করে।
পাখিরা মানুষের মতো ঘন ঘন চোখের পলক ফেলে না, যা এমন ধারণা তৈরি করতে পারে যে তারা একেবারেই চোখের পলক ফেলে না।
ঘোড়ার চোখ মুখের সামনে না থেকে দুপাশে থাকে কেনকয়েকটি মজার তথ্য
শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক কম পলক ফেলে। মিনিটে মাত্র দুই থেকে তিনবার। এর কারণ সম্ভবত তাদের চোখ ছট এবং তারা প্রচুর নতুন চাক্ষুষ তথ্য গ্রহণ করছে।
একটি হ্যামস্টার প্রায়সময় একবারে কেবল একটি চোখের পলক ফেলে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নীল বা সবুজ রঙের চোখ আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। কারণ, আইরিশে রঞ্জক পদার্থ কম থাকায় আলো আটকাতে পারে না। এতে বাদামি চোখের লোকদের তুলনায় উজ্জ্বল পরিবেশে বেশি ঘন ঘন পলক ফেলতে থাকে তারা।
যদি তুমি স্ক্রিনের সামনে অনেক সময় ব্যয় করে থাকো, কিন্তু এই অভ্যাস ছাড়তে চাও, তাহলে ২০-২০-২০ নিয়মটি ব্যবহার করতে পারো। এই নিয়মে, প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন টাইমের জন্য, কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য কমপক্ষে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো কিছুর দিকে তাকাতে হয়।
দৈনন্দিন রুটিনে এই অভ্যাস যোগ করলে চোখের ওপর চাপ, ক্লান্তি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক চোখের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: ক্লেভ ল্যান্ড ক্লিনিক, ডিউক হেলথ
চোখ ভালো রাখতে যে নিয়ম মানতে হবে