ঢাকা থেকে পাঁচ দিনে বাতিল হলো ১৭৬টি ফ্লাইট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
· Prothom Alo

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। আজ বুধবারও ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ নিয়ে গত শনিবার থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে মোট ১৭৬টি ফ্লাইট বাতিল হলো।
Visit aportal.club for more information.
ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আবুধাবি, শারজা, দুবাই, দোহা; কুয়েত ও দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই রুটগুলোয় ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে। এ ছয়টি রুট ছাড়া বিমানের মধ্যপ্রাচ্যগামী জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ ও মাসকাটের ফ্লাইট চালু আছে।
আজ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক যাত্রীকে বাড়ির দিকে ফিরে যেতে দেখা যায়। আবার অনেকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা বলছিলেন, বাতিল হওয়া ফ্লাইট আবার কবে কখন চালু হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানেন না। তাই অপেক্ষা করছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে আজ বেলা দুইটায় একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বাসিন্দা জামাল হোসেনের। সে জন্য আজ সকাল সাতটা থেকে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন তিনি। দুপুরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুইটার ফ্লাইটে যাওয়ার কথা ছিল, সে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এখন নতুন করে রাতে যাওয়ার কথা বলেছে, সে জন্য অপেক্ষা করছি।’
ছেলে মো. রাসেলকে নিয়ে বিমানবন্দরে এসেছেন ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা রফিক মোল্লা। তাঁর ছেলে বিমানের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল দুপুর ১২টার একটি ফ্লাইটে। এমন যুদ্ধাবদ্ধার মধ্যেও কেন মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে যেতে হচ্ছে। আজ ছুটি শেষ। কফিলের (নিয়োগকর্তা) সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, আজই যেতে বলছে। ভিসাটা ক্যানসেল (বাতিল) হলে সংকটে পড়ে যাব, জায়গা–জমি বেচে ভিসা করেছি।’
বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১–এর বাইরে লাগেজ বহনকারী ট্রলিতে বসে গল্প করছিলেন মানিকগঞ্জ থেকে আসা আফজাল হোসেন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা আতিকুর রহমান। সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁদের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল গতকাল বেলা তিনটায়। সেটি বাতিল হয়ে আজ দুপুর ১২টায় যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেটিও বাতিল হয়। নতুন নির্ধারিত সময় আজ রাত ১০টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য তারা এখন অপেক্ষা করছেন বলে প্রথম আলোকে জানান।
গত শনিবার রাতের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল ফেনীর সোনাগাজীর বাসিন্দা নুরুল আবসারের। সেটি বাতিল হওয়ায় আজ ভিন্ন একটি ফ্লাইটে দেশটির রাজধানী রিয়াদে যাবেন তিনি। দুপুরে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘রিয়াদে গিয়ে সেখান থেকে দাম্মাম যাব। ছুটি শেষ, সে জন্য কাজে ফিরতে হবে। বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।’