মনকে শান্ত করতে কফিনের ভেতর ধ্যান
· Prothom Alo

একটু শান্তিতে বিশ্রাম কার না মন চায়। তাই বলে কফিনে শুয়ে! শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি ঘটেছে তা-ই। এই শান্তিতে বিশ্রাম নিতে কিছু জাপানি অদ্ভুত এক ধ্যানচর্চা শুরু করেছেন, ধ্যান করতে কফিনের ভেতর শুয়ে পড়ছেন।
অদ্ভুত এ ‘পরিষেবা’ প্রথম শুরু হয় জাপানের চিবা প্রিফেকচারের একটি শ্মশানে। এখন জাপানে যাঁরা নিয়মিত ধ্যান করেন, তাঁদের কাছে এটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।
Visit milkshakeslot.com for more information.
‘কফিনে শোয়া’ বা কফিনের ভেতরে ধ্যান করার অভ্যাস মানুষকে তাদের মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করতে অথবা নিজেকে আবার ফিরে পাওয়ার অনুভূতি পেতে একটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ পরিবেশ দেয় বলে মনে করা হয়।
জাপানে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এখন রেকর্ড উচ্চতায়। এ অবস্থায় কফিনে শুয়ে ধ্যান তরুণদের সামনে সৃজনশীল উপায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ কারণে এভাবে ধ্যানচর্চা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কিছু ব্যবসায়ীও এ প্রবণতাকে ব্যবসার নতুন সুযোগ হিসেবে লুফে নিয়েছেন। এমন পরিষেবাদানকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, যাঁরা একা থাকার কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতে চান, তাঁদের জন্য এ ধরনের ধ্যান উপকারী।
যদি সাধারণ কাঠের কফিন আপনার স্নায়ুকে শান্ত করতে না পারে, তবে কোনো কোনো স্পা আপনার জন্য নতুন সেবা চালু করেছে। আপনি চাইলে সেখানে গিয়ে তাদের আরামদায়ক রঙিন কফিনে শুয়ে থাকতে পারেন; যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কিউট কফিন’। গ্রাহকেরা অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ সেবা নিতে পারেন।
খোলা বা বন্ধ কফিন—যেকোনোটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এর পাশাপাশি চাইলে কফিনের ভেতর গান শোনার, ভিডিও দেখার সুযোগও রয়েছে। এভাবে চাইলে যে কেউ পূর্ণ নিস্তব্ধ পরিবেশে ‘শান্তি’ উপভোগ করতে পারেন।
গ্রেভ টোকিও নামের একটি কোম্পানি রঙিন কফিন তৈরি করে। কোম্পানিটির নকশাকার মিকাকো ফুসে গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী কফিন তৈরি করে দেন। তিনি বলেন, মৃত্যু উজ্জ্বল এবং তা এতটা ভয়ংকর নয়। এমন কফিনজীবন কেন মূল্যবান, তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেও তৈরি করা হয়।