শিক্ষার্থীদের কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিলে হবে না

· Prothom Alo

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কাছে অগ্রাধিকার পাবে তিনটি বিষয়—শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা ও পরিমার্জন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন। এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী ভাবছেন? তাঁদের দৃষ্টিতে কোন কোন বিষয় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত?

Visit lej.life for more information.

গবেষণায় জোর দিলে ভবিষ্যতে সুফল মিলবে

সুরঞ্জনা ত্রিপুরা

সুরঞ্জনা ত্রিপুরা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 আমার মতে তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

১. কারিগরি শিক্ষা: আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ‘ডিগ্রিকেন্দ্রিক’। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বের হলেও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে তাঁরা বেকার থাকছেন। অথচ বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে হাতে-কলমে শিক্ষার গুরুত্ব বেশি। আমি মনে করি, প্রতিটি উপজেলায় উন্নত কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কোডিং, গ্রাফিকস বা মেকানিকসের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা গেলে আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে।

২. গবেষণা ও সৃজনশীলতার বিকাশ: উচ্চশিক্ষায় গবেষণার বাজেট বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেকটাই মুখস্থনির্ভর, যা আমাদের উদ্ভাবনী শক্তি কমিয়ে দেয়। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে নিজস্ব পেটেন্ট এবং মৌলিক গবেষণার বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার কাঠামোতে গবেষণাকে অতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আমার কাছে মনে হয়, সরকারে শিক্ষাব্যবস্থায় অগ্রাধিকারের তালিকায় গবেষণার বিস্তারকে রাখা উচিত। সেটার সুফল তাৎক্ষণিকভাবে না পেলেও ভবিষ্যতে আমরা নিশ্চয়ই পাব।

লিংকডইনের জনপ্রিয় এই ফ্রি কোর্সটিতে কী আছে

৩. ডিজিটালাইজেশন বা প্রযুক্তিগত শিক্ষা: শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে বিশাল ফারাক আছে, সেটা দূর করা জরুরি। ডিজিটাল লার্নিং যেন কেবল বিত্তবানদের জন্য না হয়। তা ছাড়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাবের মতো কর্মসূচি শুধু কাগজে–কলমে না রেখে এগুলো যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, সরকারকে সেদিকে নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা উচিত

মেজবাহ উদ্দিন খান

মেজবাহ উদ্দিন খান, ইংরেজি বিভাগ, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাকাঠামো অনেকাংশেই সেকেলে, যুগের চাহিদার সঙ্গে বেমানান। এ কারণেই আমাদের মেধাবীরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। আমার মতে যে তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা হলো—

 ১. প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এটি শিক্ষার্থীদের কেবল শারীরিকভাবে সুস্থ রাখবে না, বরং তাদের মধ্যে দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে তুলবে। নেতৃত্বদানের গুণাবলি ও সৃজনশীল চিন্তাও জাগ্রত করবে বলে আমার বিশ্বাস।

২. কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে বর্তমান কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব। শিক্ষার্থীদের কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিলে হবে না, তাদের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো ‘স্কিল’ বা দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। ফিনল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোও তাদের শিক্ষাক্রমে ব্যবহারিক ও ভবিষ্যৎ–মুখী দক্ষতা সংযোজনে জোর দিচ্ছে।

৩. আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ৩৩ শতাংশ নম্বরকে পাস মার্ক হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত। ব্রিটিশরা ভারতবাসীকে কেবল কেরানি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এই মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা সেই একই মানদণ্ড ধরে রেখেছি। পশ্চিমা বিশ্বে গড় উত্তীর্ণ নম্বর সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে হয়ে থাকে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পাস মার্ক বা উত্তীর্ণের ন্যূনতম মানদণ্ড বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

বিয়ে করলেন শিখর ধাওয়ান ও সোফি শাইন, দেখুন ১০ ছবিতে

Read full story at source