চার দিনও লাগল না বাংলাদেশের হারতে

· Prothom Alo

বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী।

আলোকস্বল্পতা, বৃষ্টি, বজ্রপাত মিলিয়ে চার দিনে অপ্রত্যাশিতভাবে খেলা বন্ধ হয়েছে ৯ বার। প্রতিবারই নষ্ট হয়েছে কিছু না কিছু সময়। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের জায়গায় খেলা হতে পেরেছে প্রায় ৬০ ওভার কম। মিরপুর টেস্ট তারপরও শেষ চতুর্থ দিনেই। ফলাফল—ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জিতে দুই টেস্টের সিরিজে এগিয়ে গেছে ১–০তে।

Visit saltysenoritaaz.org for more information.

আজ লাঞ্চের আগেই ১৪২ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস, লিড দাঁড়ায় মাত্র ১৬৯ রানের। সেটিও না–ও হতে পারত যদি বল হাতে ৪ উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতেও টেস্টে নিজের প্রথম ফিফটিটা না করতেন নাঈম হাসান। গতকাল ৫৩ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর উইকেটে এসেছিলেন নাঈম। সেখান থেকে বাংলাদেশ যেটুকুই লিড নিতে পেরেছে, তাতে নাঈমকে বিশেষ কৃতিত্ব দিতেই হবে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি।

তারপরও আগের দিনের ৬ উইকেটে করা ৭৯ রানের সঙ্গে আজ আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করেই দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। অফ স্পিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৩৬ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ৪ উইকেট নিয়েছেন এই ইনিংসেও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফিল্ডারদের ভুলে পাওয়া সুযোগগুলোও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। ইনিংসের ৩১.২ ওভারে ওয়ারিক্যানের বাতাসে ভাসানো স্টাম্প বরাবর আসা ধীরগতির বলটি বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সোজা মারতে চেয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। কিন্তু ব্যাটে ঠিকমতো লাগেনি। ওদিকে ডাইভ দিয়েও নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি তালুবন্দী করতে পারেননি বোলার ওয়ারিক্যান।
৩৪তম ওভারের প্রথম বলে চেজের হাতে ক্যাচ ফসকে বাঁচেন নাঈম। এবার ওয়ারিক্যানের বলে স্কয়ার কাট করতে গেলে বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে দাঁড়ানো চেজের বাঁ পাশ দিয়ে সীমানার বাইরে চলে যায়।

নাঈম আরেকবার জীবন পান ৩৬তম ওভারের শেষ বলে এবং এবারও রোস্টন চেজ। ব্যক্তিগত ৩০ রানে ওয়ারিক্যানের জোরের ওপর করা ভালো লেংথের বলটি সামনের পায়ে ভর দিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগান নাঈম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক নিচু হয়ে ডান দিকে ঝুঁকেও ক্যাচটি হাতে রাখতে পারেননি।

বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে বৃষ্টিতে খেলা থেমেছে একবার। লাঞ্চের আগে এক ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসও বারবার থেমেছে অপ্রত্যাশিত সব কারণে। কখনো বৃষ্টি, কখনো আলোকস্বল্পতা, কখনো আবার বজ্রপাত।
সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে ছোট লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার মিলে বাংলাদেশের ৯ উইকেট তুলে নিলেও বাংলাদেশের স্পিনে সেই বিষ ছিল না। বরং ৮ উইকেটের জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে দুটি উইকেট হারিয়েছে, দুটিই নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের দুই পেসার। ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে (৪৯) বোল্ড করেছেন শরীফুল ইসলাম। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে তাইজুল ইসলামের ক্যাচ বানিয়েছেন হাসান মাহমুদ।

শরীফুল ক্যাম্পবেলের স্টাম্প উপড়ে ফেলার আগেই অবশ্য ওপেনিংয়ে ১১২ রানের জুটি হয়ে যায় ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিংয়ের মধ্যে। কিং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৮১ রানে। অপরাজিত ৩১ রান এসেছে কেবন হজের ব্যাট থেকে। দলের ১২০ রানে তেজনারায়ণের আউটের পর এ দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতেই ম্যাচ শেষ করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম দিনটা বাদ দিলে মিরপুর টেস্টে কখনোই আসলে মনে হয়নি বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড না পেলেও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। আর দ্বিতীয় ইনিংসটা তো পুরোই তাদের দাপটে থাকল। প্রথমে স্পিন দিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে শৃঙ্খল পরিয়ে রাখা, যদিও উইকেট থেকে যে স্পিনাররা অনেক বেশি সহায়তা পেয়েছেন, তা নয়।

এরপর ১৭০ রানের স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রীতিমতো ওয়ানডে মেজাজে ম্যাচ শেষ করে দেওয়া। মাত্র ৩৫.১ ওভারই তাদের লেগেছে এক দিনেরও বেশি সময় হাতে রেখে টেস্টটা জিততে।

মিরপুরের টেস্টের হারে বাংলাদেশের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সমীকরণ গেল আরও কঠিন হয়ে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম ৫২, জাকের ২২; চেজ ৫/৩৬, ওয়ারিক্যান ৪/৬৩)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২ (কিং ৮১*, ক্যাম্পবেল ৪৯; হাসান ১/১৪)।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জোমেল ওয়ারিক্যান।

সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেট হারল বাংলাদেশ

Read full story at source