এক কেজি গরুর মাংস উৎপাদনে খরচ কত, জানাল প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
· Prothom Alo

এক কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার এ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ডিম, দুধ ও মাংসের উৎপাদন খরচের তথ্য তুলে ধরা হয়।
Visit esporist.com for more information.
পরে কমিটি মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা, কৃত্রিম সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করার সুপারিশ করে। এ জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সুপারিশের কথা জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। তাতে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা, এক কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। একটি ডিম উৎপাদনের খরচ ১০ টাকা ৮১ পয়সা, এক কেজি দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা, এক কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং এক কেজি খাসির মাংসের উৎপাদন খরচ ৮৭৫ টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে প্রণীত একটি কৌশলপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই কৌশলপত্রের আলোকে বাজারে এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের চাহিদা নিরূপণ করে সে অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদা, উৎপাদন, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে সভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে সদস্যদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে দাম বেশি। তবে এর ব্যাখ্যায় বৈঠকে বলা হয়, উৎপাদনকারী যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন কি না, সেটাও দেখতে হবে। আর উৎপাদনকারীরা সরাসরি খুচরা বাজারে বিক্রি করেন না। কয়েক হাত বদল হয়ে ভোক্তাদের কাছে আসে। তখন কমিটির পক্ষ থেকে মাছ, মাংস, ডিম, দুধের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি কি না, সেটা যাচাই করে দেখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা, জলাশয়ে অভয়াশ্রম, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা, বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতি বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান, মৎস্য আহরণ এবং রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কমিটিতে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম মো. আবু বকর ও মো. আমির হামজা। সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ।