বিদেশে পড়তে গিয়ে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেবেন যেভাবে
· Prothom Alo

নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন জীবন। দীর্ঘদিনের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে বিদেশে পড়তে গেলে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসেও আসতে পারে বড় পরিবর্তন। ক্লাসে নিজের মতামত তুলে ধরা, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, নিজের খাবার নিজে তৈরি করা কিংবা মন খারাপের দিনে পরিবারকে কাছে না পাওয়া—সব মিলিয়ে ভিনদেশে শুরুটা হতে পারে বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এই অভিজ্ঞতাগুলোই ধীরে ধীরে শেখায় স্বনির্ভর হতে, ভিন্নতাকে বুঝতে এবং নিজের মতো করে নতুন পরিবেশে জায়গা তৈরি করতে।
Visit sweetbonanza.qpon for more information.
ভাষাগত বাধা কাটিয়ে উঠুন
বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভাষা জানা শুধু ক্লাস বোঝার জন্যই নয়, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও স্থানীয় ভাষার কিছু শব্দ ও বাক্য জানা দৈনন্দিন জীবনে কাজে আসতে পারে। তাই যাওয়ার আগে গন্তব্য–দেশের প্রচলিত ভাষা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শেখার কোর্স, লেখার সহায়তা কেন্দ্র বা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা অন্যান্য সুবিধাও কাজে লাগাতে পারেন।
নতুন সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হন
দেশভেদে মানুষের আচরণ, সামাজিক নিয়ম, সময়ের মূল্য, ব্যক্তিগত পরিসর এবং যোগাযোগের ধরনে পার্থক্য থাকতে পারে। নতুন দেশে গিয়ে এসব পার্থক্যকে ভুল বা অস্বাভাবিক না ভেবে বোঝার চেষ্টা করুন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলুন, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন এবং স্থানীয় নিয়মকানুনকে সম্মান করুন।
খাবারের ক্ষেত্রেও শুরুতে সমস্যা হতে পারে। পরিচিত খাবার না পাওয়া, রান্নার অভ্যাস না থাকা কিংবা খাবারের দাম বেশি মনে হওয়া—এসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের খাবার, বাজার ও রান্নার সুযোগ সম্পর্কে জেনে নিন। সম্ভব হলে কয়েকটি সহজ খাবার রান্না করা শিখে যান। নিজের পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন খাবার চেখে দেখার মানসিকতাও রাখুন।
একাকিত্ব সামলান, তৈরি করুন নতুন বন্ধুত্ব
পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে থাকার কারণে মন খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে নতুন দেশে প্রথম কয়েক সপ্তাহ বা মাসে পরিচিত পরিবেশের অভাব বেশি অনুভূত হতে পারে। এ সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তবে শুধু দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব, সাংস্কৃতিক আয়োজন, খেলাধুলা কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিলে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে নিজের আগ্রহের কাজ চালিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা, অতিরিক্ত উদ্বেগ বা একাকিত্ব দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেবা বা শিক্ষার্থী–সহায়তাকেন্দ্রের সাহায্য নিন।
বিদেশে নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিষয়ে সেবা কনসালটেন্সি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতির পার্থক্যের মুখোমুখি হন। মানিয়ে নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।’
মোহাম্মদ রাসেল মিয়া আরও বলেন, ‘একাকিত্ব কাটাতে বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সবার সঙ্গে ভালো আচরণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা প্রয়োজন।’
পড়াশোনার নতুন ধরনে অভ্যস্ত হন
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে আলোচনা, দলগত কাজ, গবেষণা, উপস্থাপনা ও স্বাধীনভাবে শেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার আগে পড়ার বদলে নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অ্যাসাইনমেন্টের সময়সীমা লিখে রাখুন, ক্লাসের নোট গুছিয়ে রাখুন এবং কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে শিক্ষক বা সহপাঠীর সাহায্য নিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সহায়তা কেন্দ্রও কাজে লাগাতে পারেন।
নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে সময় দেওয়া জরুরি। শুরুতেই সবকিছু বুঝে ফেলা বা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করা সম্ভব না–ও হতে পারে। অন্যের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের পরিস্থিতির তুলনা না করে ছোট ছোট অগ্রগতিতে মনোযোগ দিন। নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রেখেও নতুন পরিবেশ থেকে শেখা যায়। ধৈর্য, কৌতূহল এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়ার মানসিকতাই বিদেশে নতুন জীবন গড়ে তোলার পথে সহায়ক হতে পারে।