মুখস্থবিদ্যার পরিণতি
· Prothom Alo

আমাদের ক্লাসের তানভীরের মুখস্থবিদ্যা এত বেশি যে সে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর হুবহু মুখস্থ করতে পারে এবং প্রশ্ন দেখামাত্র লেখা শুরু করে দিতে পারে। মাঝে মাঝে পুরো প্রশ্ন না পড়েই।
Visit newsbetting.club for more information.
ইকোনম্যাট্রিকসের মিড টার্ম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে তার সঙ্গে দেখা। প্রিপারেশন কেমন জিজ্ঞেস করতেই সে বলল, ‘একটা ম্যাথ লিখতে যদি চার পৃষ্ঠা খরচ হয়, তাহলে বোঝার উপায় কী! একেবারে ঠাডা মুখস্থ করে আসছি।’
বন্ধু কমার্স থেকে ইকোনমিকস পড়তে আসছে। ম্যাথ খুব একটা বোঝে না, সে যা পায় সব মুখস্থ করে ফেলে। তার নাকি ম্যাথ মাথার ওপর দিয়ে যায়!
স্যার প্রথম দুটি প্রশ্ন ঠিকঠাক দিলেও পরেরটার সংখ্যা বদলে দিল।
পরীক্ষা শেষ। সে হল থেকে বের হয়ে কনফিডেন্টলি বলল, সে ৩০–এ ৩০ পাবেই। আমি বললাম, ‘লাস্টের ম্যাথে তো সংখ্যা পাল্টাই দিছে!’
সে তৎক্ষণাৎ বই এবং প্রশ্ন মিলিয়ে দেখে সংখ্যা আসলে পাল্টাই দিছে। তার উজ্জ্বল মুখটা হঠাৎ করে নিভে গেল।
আমারও একটা ডিভোর্স হয়েছেবিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়রোবট ‘বল্টু’র রাজনৈতিক উত্থানএর পর থেকে সে ভালো করে প্রশ্ন পড়ে নেয়।
কিন্তু বিপত্তি বাধল মাইক্রোইকোনমিকস পরীক্ষার যখন রেজাল্ট দিল।
ক্লাসে রফিক স্যার তানভীরকে ডেকে বলল, ‘তানভীর তুমি কার “চোথা” পড়ছ?’
সে বলল, ‘ফারহানের।’
ফারহান তো A+ পাইছে, আর তুমি পাইছো A-। আমি ভেবেছি তুমি A+ পাবেই।
তানভীরের উজ্জ্বল মুখ আবারও নিভে গেল। সে ভেবেছিল থিওরিগুলোতে অন্তত ভালো রেজাল্ট আসবেই।
স্যার শুধু তানভীরের খাতা নিয়ে এলেন। খাতার ভেতরে খুলে ৫ নম্বর উত্তরটা বের করলেন এবং সবাইকে দেখিয়ে বললেন, ‘তানভীর যথেষ্ট ভালো লিখেছে শুধুমাত্র একটা লাইনের জন্য তাকে জিরো (০) দেওয়া হয়েছে। সে উত্তরের শেষে লিখেছে, ‘আপনি চাইলে জিডিপি এবং জিএনপির একটা ট্রেন্ড অ্যানালাইসিস বানিয়ে দিতে পারি।’
ফারহান মনে মনে বলছে, ‘আরে বন্ধু “চোথা” তো বানাইছি এআই দিয়া, তুই এটা বাদ দিয়ে লিখবি না!’