আমারও একটা ডিভোর্স হয়েছে
· Prothom Alo

ইদানীং চারদিকে ডিভোর্সের হাওয়া। কে কাকে ডিভোর্স দিল, কেন দিল, কে আগে দিল—এসব নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। ফেসবুক খুললেই মনে হয়, বিয়ের পরবর্তী ধাপই বুঝি ডিভোর্স!
তবে বিয়ে না করেও ডিভোর্স দেওয়া যায়। আমি তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
Visit betsport.cv for more information.
আমার ডিভোর্স হয়েছিল পড়ালেখার সঙ্গে।
ছোটবেলায় পড়ালেখার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বেশ ভালোই ছিল। প্রতিদিন দেখা হতো, একসঙ্গে সময় কাটত, পরীক্ষার আগে রাত জেগে কথা হতো। সম্পর্কটা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে মা-বাবা পর্যন্ত আমাদের সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট সিরিয়াস ছিলেন। পড়ালেখার এই মাখো মাখো প্রেম থাকা সত্ত্বেও একসময় আমি সিদ্ধান্ত নিলাম—আর না! এই সম্পর্ক আমার জন্য নয়!
আমি পড়ালেখাকে বললাম, ‘তোমার আমার এই সম্পর্কটা আর এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।’
পড়ালেখা কোনো কথা বলল না। শুধু চুপ করে আমার সামনে বসে রইল। আমি ভাবলাম, ডিভোর্স হয়ে গেছে।
নতুন জীবন শুরু করলাম। প্রথম কয়েক দিন বেশ ভালোই কাটল। মনে হলো, আহা, কী শান্তি! কোনো বইয়ের চাপ নেই, কোনো পরীক্ষার ভয় নেই, কেউ এসে বলছে না, ‘আজ কী পড়েছ?’
আমি ভাবলাম, অবশেষে মুক্তি!
কিন্তু ভুলটা সেখানেই।
ফ্লেক্সতেলসংকটে মহাসমাধানমাঝেমধ্যে হঠাৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখলেই বলে, ‘এই যোগ্যতাটা আছে?’
কোনো নতুন কোর্স দেখলেই বলে, ‘এটা শিখবে না?’
এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
বিয়ের ক্ষেত্রে মানুষ ডিভোর্স দিলে অন্তত প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীকে ব্লক করা যায়। কিন্তু পড়ালেখাকে ব্লক করব কীভাবে?
ফেসবুকে ব্লক করলে গুগলে চলে আসে। গুগল বন্ধ করলে ইউটিউবে আসে। ইউটিউব বন্ধ করলে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আসে! আমি পড়ালেখাকে ডিভোর্স দিয়েছি ঠিকই, পড়ালেখা আমাকে ডিভোর্স দেয়নি।
আমি শুধু সেপারেশনে আছি।
সম্পর্কটা এখনো চলছে।
শুধু দেখা হলেই দুজন দুদিকে তাকিয়ে থাকি।
আমি যতই এড়িয়ে চলি, পড়ালেখা ততই আমাকে অনুসরণ করে। মনে হয়, আমাদের ডিভোর্সটা আদালতে হয়েছে, কিন্তু ডিক্রি এখনো কার্যকর হয়নি।
তবে একটা ব্যাপারে পড়ালেখার প্রশংসা করতেই হয়।
বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষ বলে, ‘সব শেষ।’
আর পড়ালেখার সম্পর্ক ভেঙে গেলেও পড়ালেখা বলে, ‘শেষ বলে কিছু আছে নাকি! আবার শুরু করো!’
সমস্যা হলো, আমি যতবার নতুন করে শুরু করতে যাই, পড়ালেখা ততবার বলে, ‘এত দিনের বকেয়া সব আগে কড়ায়গন্ডায় শোধ করো, নয়তো কিছুই মিটমাট হবে না!’
বুঝলাম, ডিভোর্স হলেও পড়ালেখা আসলে কখনোই প্রাক্তন হয় না। বরং আজীবনের দায়!