জুলাইয়ের এক মামলায় সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো

· Prothom Alo

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় পোশাককর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Visit betsport.cv for more information.

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান গত ২৯ সেপ্টেম্বর আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ রোববার দিন রাখেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, তদন্তে প্রাপ্ত সন্দিগ্ধ আসামি কাজী হাবিবুল আউয়াল বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২২ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সাল ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজী হাবিবুলসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বে মামলার এজাহারনামীয় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সহায়তাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালনসহ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনকে কলুষিত করেন। মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের নিমিত্তে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, আসামি চাকরি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি একটি হত্যা মামলা। এই ঘটনার সময় তিনি চাকরিরত অবস্থায় ছিলেন। কোথাও বের হতে হলে তাঁকে সর্বদাই পুলিশ ঘিরে রাখত। এই প্রটোকলের মধ্যে থেকে তাঁর এই ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করা মোটেই সম্ভব নয়। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য প্রার্থনা করছেন।

এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লুটপাট করেছেন এই আসামি। শেখ হাসিনা তাঁকে দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। শেখ হাসিনার অবৈধ ভোটকে বৈধতা দিয়েছেন এই আসামি। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর আগে তাঁর নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে মিটিংয়ে বসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এই আসামিও একজন। কীভাবে এই আন্দোলনকে দমানো যায়, তার নির্দেশনাও দিয়েছেন এই আসামি। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ, মৎসজীবী লীগের নেতা–কর্মীরা গুলি চালান। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

Read full story at source