যে নামে সিনেমা করলেই ফ্লপ! হিন্দি সিনেমার অদ্ভুত কাকতাল

· Prothom Alo

হিন্দি সিনেমায় নামকরণ নিয়ে কুসংস্কারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। কোনো শব্দ বা অক্ষর সাফল্য এনে দিলে সেটিকে বারবার ব্যবহার করেছেন নির্মাতারা। আবার কোনো নামকে ‘অশুভ’ মনে হলে তা এড়িয়ে চলার নজিরও কম নেই। তবে এমন একটি শব্দ আছে, যেটি বারবার সিনেমার শিরোনামে ব্যবহার করেও বলিউড যেন সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেনি। চার দশকে ওই শব্দ পুরো নাম হিসেবে বা নামের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে অন্তত ৯টি সিনেমা। আশ্চর্যের বিষয়, সব কটি সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যর্থ।
শব্দটি হলো ‘কর্জ’—উর্দু ভাষায় এই শব্দের অর্থ ঋণ বা ধার।

Visit sportbet.rodeo for more information.

প্রথম ‘কর্জ’ থেকেই শুরু
১৯৮০ সালে সুভাষ ঘাই নির্মাণ করেন ‘কর্জ’। ঋষি কাপুর, সিমি গারেওয়াল, টিনা মুনিম ও প্রাণ অভিনীত ছবিটির গল্প ছিল প্রতিশোধ ও পুনর্জন্মকে ঘিরে। ঋষি কাপুর অভিনয় করেছিলেন এক রকস্টারের চরিত্রে, যে জানতে পারে সে আসলে পূর্বজন্মের এক ব্যক্তির পুনর্জন্ম। আগের জীবনের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই সে এগিয়ে যায়।
১৯৭৫ সালের হলিউডের ছবি ‘দ্য রিইনকারনেশন অব পিটার প্রাউড’ থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমা মুক্তির সময় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ফিরোজ খানের ‘কুরবানি’র দাপটে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক হারায় ছবিটি। ভারতীয় বক্স অফিসে প্রায় চার কোটি রুপি আয় করে।

তবে সময়ের সঙ্গে ছবিটির ভাগ্য বদলায়। ব্যবসায়িক ব্যর্থতা সত্ত্বেও ‘কর্জ’ পরে বলিউডে কাল্ট সিনেমার মর্যাদা পায়। বিশেষ করে এর গানগুলো আজও জনপ্রিয়।
ঋষি কাপুর তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ছবিটির ব্যর্থতা তাঁকে নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই অনিশ্চিত করে তুলেছিল। ব্যর্থতার পর তিনি হতাশায় ভুগেছিলেন।
২৮ বছর পর আবার ‘কর্জ’, এবার আরও বড় বিপর্যয়

২০০৮ সালে ‘কর্জ’–এর রিমেক তৈরি করেন নির্মাতা সতীশ কৌশিক। মূল ছবিতে ঋষি কাপুর যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, এবার সেই চরিত্রে ছিলেন হিমেশ রেশমিয়া; সঙ্গে ছিলেন উর্মিলা মাতোন্ডকর, ড্যানি ডেনজংপা, ডিনো মোরিয়া ও শ্বেতা কুমার।
প্রায় ২৪ কোটি রুপি বাজেটে তৈরি ছবিটি মাত্র ১৬ কোটি রুপি আয় করে। ফলে নির্মাতাদের জন্য এটি বড় আর্থিক ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ছবিটির ব্যর্থতার ধাক্কায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রায় দেউলিয়া হওয়ার অবস্থায় চলে গিয়েছিল।

ছবিটির প্রভাব অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারেও পড়ে। একসময় বলিউডের পরিচিত মুখ উর্মিলা মাতোন্ডকর এরপর বড় পর্দায় নিয়মিত কাজের সুযোগ হারান। ‘কর্জ’-এর পর তাঁকে আর বড় কোনো হিন্দি সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যায়নি। এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক হয়েছিল শ্বেতা কুমারের। কিন্তু এরপর আর হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেননি তিনি।

‘কর্জ’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

সানি দেওলের ‘কর্জ’ও বাঁচাতে পারেনি
২০০২ সালে সানি দেওল, সুনীল শেঠি ও শিল্পা শেঠিকে নিয়ে নির্মিত হয় ‘কর্জ: দ্য বার্ডেন অব ট্রুথ’। পরিচালনায় ছিলেন হ্যারি বাওয়েজা। বড় তারকা থাকলেও সিনেমাটি দর্শক টানতে পারেনি। ভারতীয় বক্স অফিসে ছবিটির আয় ছিল প্রায় ১৫ কোটি রুপি। সমালোচকদের কাছ থেকেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এটি।
এরপরও ‘কর্জ’ শব্দটি থেমে থাকেনি।

‘কর্জ’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

একের পর এক ব্যর্থতা
‘কর্জ’ শব্দটি পুরো নাম হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন সিনেমার শিরোনামের অংশ হিসেবেও এসেছে। আর প্রতিবারই ফল হয়েছে হতাশাজনক।
১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় ‘কর্জ তেরে খুন কা’। ১৯৯০ সালে আসে ‘দুধ কা কর্জ’ ও ‘পেয়ার কা কর্জ’। ১৯৯১ সালে মুক্তি পায় ‘কর্জ চুকানা হ্যায়’ ও ‘মহান কর্জ’। পরে ২০১৬ সালেও আবার তৈরি হয় ‘দুধ কা কর্জ’।
এ ছয়টি সিনেমার কোনোটি ভারতীয় বক্স অফিসে পাঁচ কোটি রুপির গণ্ডিও পেরোতে পারেনি।
অর্থাৎ ১৯৮০ থেকে ২০১৬—প্রায় ৩৬ বছরের সময়ে ‘কর্জ’ শব্দটি ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ৯টি সিনেমার কোনোটিই বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। কোনোটি সামান্য ব্যবসা করেছে, আবার কোনোটি নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

দেশভাগের নাড়িয়ে দেওয়া স্মৃতি, এই সিনেমা মিস করবেন না

নিছক কাকতাল
বলিউডে সিনেমার নাম নিয়ে কুসংস্কারের উদাহরণ অনেক। কোনো পরিচালক নির্দিষ্ট অক্ষর বারবার ব্যবহার করেছেন, কোনো নির্মাতা নামের বানান বদলে সাফল্য পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিচালক অর্জুন হিঙ্গোরানির সিনেমার নামেও ‘কে’ অক্ষরের ব্যবহার ছিল লক্ষণীয়। তাঁর ‘কব? কিউঁ? অউর কহাঁ?’, ‘কাহানি কিসমত কী’ কিংবা ‘কাতিলোঁ কে কাতিল’—সব নামেই ছিল একই প্রবণতা।

সেই জায়গা থেকে ‘কর্জ’ শব্দটির গল্প আলাদা। কারণ, একই শব্দ বারবার ব্যবহার করে পরপর ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছে। এটিকে বলিউডের এক অদ্ভুত কাকতাল হিসেবেই দেখা যায়।

মজার বিষয়, হিন্দি সিনেমার নামকরণে উর্দু শব্দের ব্যবহার আগের তুলনায় কিছুটা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ‘কর্জ’–এর ব্যবহারও প্রায় হারিয়ে গেছে। ২০১৬ সালের পর হিন্দি সিনেমায় এই শব্দকে কেন্দ্র করে আর উল্লেখযোগ্য কোনো ছবি দেখা যায়নি। ফলে চার দশক ধরে বক্স অফিসে ব্যর্থতা আপাতত থেমে গেছে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Read full story at source