ইটভাটায় ডেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হলো, ৪ ‘বন্ধু’র নামে মামলা
· Prothom Alo
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। গত রোববার রাতে উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
Visit syntagm.co.za for more information.
আহত মো. বশির (২১) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের উপকর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক বলে ফেসবুকে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম। রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি বশিরের বড় ভাই রবিউল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় বশিরের বাবা মনির হোসেন গতকাল সোমবার রাতে সিঙ্গাইর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন সদর উপজেলার গুজুরির চর গ্রামের আকাশ মোল্লা (২১), সিঙ্গাইরের ডেফলতলী গ্রামের আরিফ হোসেন (২০), চর কৃষ্ণপুর গ্রামের তানজিদ হোসেন (২২) ও ভাড়াই ভিকরা গ্রামের মো. তুহিন (২১)। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আসামিরা সবাই বশিরের বন্ধু।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত রোববার রাত ১০টার দিকে বশির তাঁর বন্ধু সুমনকে নিয়ে সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন। এ সময় অপর বন্ধু আকাশ কৌশলে তাঁকে সিঙ্গাইরের ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে অন্য আসামিরা ছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ইটভাটায় পৌঁছানোর পর আকাশসহ অন্যরা বশিরকে ঘিরে ফেলেন। তাঁদের হাতে রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রড ছিল। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বশিরের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান তিনি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো ও আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বশিরের দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়।
মৃত ভেবে হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন বশিরকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে বশিরের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর বড় ভাই রবিউল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। পূর্বশত্রুতার জেরে সন্ত্রাসীরা তাঁর দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দিয়েছে। হামলাকারীরা সবাই তাঁর বন্ধু। তবে কী নিয়ে তাদের মধ্যে শত্রুতা, তা আমরা জানি না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বশিরের শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।’
কী কারণে ছেলের ওপর এভাবে হামলা করা হয়েছে, তা জানেন না বশিরের বাবা মনির হোসেন। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনায় করা মামলার আসামিরা আহত তরুণের পরিচিত ও বন্ধু উল্লেখ করে সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।