‘পায়ে গুলি লাগলে পড়ে যাই, পরে আওয়ামী লীগের লোকজন আমাকে পেটাতে থাকে’

· Prothom Alo

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় একটি গুলি পায়ে লাগলে পড়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন আহত জুলাই যোদ্ধা মো. হান্নান মিয়া। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এতে তাঁর মাথা ও কপাল ফেটে যায়। তাঁর বাঁ হাতের কাঁধের হাড় ভেঙে যায় এবং সোল্ডার (কাঁধ) ঝুলে যায়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার হান্নান মিয়া জবানবন্দিতে এ কথা বলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে হান্নান মিয়া জবানবন্দি দেন।

Visit turconews.click for more information.

জবানবন্দিতে হান্নান মিয়া বলেন, তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সরকার ঘোষিত গেজেটে ‘খ’ শ্রেণির জুলাই যোদ্ধা তিনি।

হান্নান মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেল ছিল। রামপুরা সেতুর দিক থেকে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আওয়ামী লীগের লোকেরা গুলি ছুড়লে একটি গুলি তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালিতে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান। পরে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও পুলিশ এগিয়ে এলে ছাত্রজনতা বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়েন। তখন আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এতে তাঁর মাথা ও কপাল ফেটে যায়। তাঁর বাঁ হাতের কাঁধের হাড় ভেঙে যায় এবং সোল্ডার (কাঁধ) ঝুলে যায়।

এ সময় তাঁর পায়ের গুলিবিদ্ধ স্থান এবং কপালের আঘাতের চিহ্ন ট্রাইব্যুনালকে দেখান হান্নান মিয়া।

আন্দোলনকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে এইমস্ নামে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান উল্লেখ করে হান্নান মিয়া জবানবন্দিতে বলেন, সেদিন সন্ধ্যার পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি মোটামুটি সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৪ দলের নেতারা বিশেষ করে কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেননসহ যাঁরা কারফিউ দিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা, নির্যাতন ও আহত করেন, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চান বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন হান্নান মিয়া।

এ মামলার আসামি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম কারাগারে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

Read full story at source