রোনালদোর গ্যারেজে কতগুলো গাড়ি, তাঁর সবচেয়ে দামি গাড়ি কোনটা
· Prothom Alo

ছোটবেলায় একটা খেলনার বাক্স থাকে প্রায় সবার। কিন্তু বড় হয়ে সেই বাক্সকেই যদি কেউ বাস্তবে বদলে ফেলে একটা পুরো শোরুমে, গল্পটা হয়ে ওঠে বিশেষ কিছু।
Visit chickenroad-game.rodeo for more information.
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম পোস্টের ক্যাপশনটা ছিল স্রেফ দুই শব্দের—‘মাই টয়েজ’। নিজের ব্যক্তিগত গ্যারেজ থেকে তোলা তিনটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি, আর সেটাই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যায় ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি লাইক, মন্তব্য পড়ে প্রায় ৪ লাখ। বোঝাই যাচ্ছে, মাঠের বাইরে রোনালদোর গাড়ির সংগ্রহও ফুটবলের মতোই দর্শকপ্রিয় কনটেন্ট।
একটা ছবিতে রোনালদো বসে আছেন লাল ফেরারির বনেটে। যেন সেটি কোনো দামি গাড়ি নয়, বাড়ির বারান্দার চেয়ার। গায়ে সাদা শার্ট, হালকা নীল জিনস আর চোখে কালো সানগ্লাস।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো তখন ছুটিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর স্পেনের মায়োরকায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। সেই ছুটির ফাঁকেই নিজের গাড়ির সংগ্রহটা একটু ভক্তদের দেখিয়ে দিয়েছেন।
রোনালদোর ব্যক্তিগত গ্যারেজটা আসলেই যেন এক শোরুম। কালো চকচকে মেঝে, ছাদজুড়ে সরলরেখার এলইডি আলো আর এতটাই জায়গা যে একসঙ্গে এক ডজনের বেশি গাড়ি রাখা যায় অনায়াসে।
বুগাত্তি ভেরন ১৬.৪ গ্র্যান্ড স্পোর্ট ভিতেস আছে সেখানে, আছে বিশেষভাবে বানানো এক শিরন। নতুন বুগাত্তি তুরবিইয়োঁও আছে একটা, যার দাম প্রায় ৩২ লাখ পাউন্ড। সঙ্গে একটা মার্সিডিজ এএমজি ওয়ান, যা মাত্র ২৭৫টি বানানো হয়েছে। এটুকুতেই বেশির ভাগ সংগ্রাহকের সারা জীবনের অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো।
ফেরারির অংশটাও কম যায় না। আছে পুরোসাংগে, দাইতোনা এসপি ৩, মনৎসা এসপি ১, একটা কালো ৫৯৯ জিটিও, আর সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি দামের লাফেরারি। ম্যাকলারেনের জায়গা দখল করেছে রুপালি রঙের একটি সেনা, যার কার্বন ফাইবার ট্রিম খোলা চোখেই দেখা যায়, সঙ্গে একটি স্পিডটেইল। এসবের বাইরে রোনালদোর সংগ্রহে আছে একটি লাম্বরগিনি আভেন্তাদর, পোর্শে ৯১১, বেন্টলি ফ্লাইং স্পার, আর ব্রাবাস কোম্পানির হাতে সাজানো এক মার্সিডিজ জি ওয়াগন।
রোনালদোর গ্যারেজে এখন গাড়ির সংখ্যা ৪০-৪১টি।
ম্যাকলারেন সেনা গাড়িটা তৈরি হয়েছে কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রেসিং চালক আইর্তন সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, বিশ্বে যার সংখ্যা মাত্র ৫০০। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগ তুলতে এর সময় লাগে মোটে ২.৮ সেকেন্ড, দাম প্রায় ১০ লাখ ডলার।
এই গাড়িগুলো যেকোনো সংগ্রহের প্রধান আকর্ষণ হতে পারত অনায়াসে। রোনালদোর ক্ষেত্রে এগুলো স্রেফ শুরু, তারও পরে আছে এমন এক গাড়ি, যা খুঁজে পাওয়াই কঠিন।
ফেরারি মনৎসা এসপি ১ গাড়িটির নকশা হয়েছে পঞ্চাশের দশকের রেসিং কারের আদলে, নেই কোনো ছাদ কিংবা প্রচলিত উইন্ডশিল্ড। দাম প্রায় ১৮ লাখ ডলার, যা থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায় পর্তুগিজ তারকার গ্যারেজে গাড়িগুলোর মানের।
রোনালদোর সবচেয়ে দামি গাড়িটির নাম বুগাত্তি সেন্তোদিয়েচি। বুগাত্তির ১১০ বছর উদ্যাপনে বানানো এই গাড়ি আসলে শ্রদ্ধার্ঘ্য নব্বইয়ের দশকের সুপারকার ইবি ১১০ কে।
গাড়ির পাশাপাশি রোনালদো ফ্যাশন সচেতনও।
শুরু থেকেই এটি ছিল সীমিত সংস্করণের একটি প্রকল্প। বুগাত্তি বানিয়েছে মাত্র ১০টি। ফলে দাম নির্ধারণের আগেই এর দুর্লভতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। রোনালদোর কাছে আছে তার একটি।
শুরুতে দাম ধরা হয়েছিল ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি ডলারের মধ্যে, পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো হিসাবে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। শুধু গতি বা হর্সপাওয়ারের কারণে নয়, অন্য অনেক কারণে এই গাড়িটা আলাদা। ইতিহাস, সীমিত উৎপাদন, আর একেবারে আলাদা নকশা—এই তিনের সমন্বয়ে সেন্তোদিয়েচি হয়ে উঠেছে সংগ্রাহকদের স্বপ্নের গাড়ি।
গাড়িটির বনেটের নিচে বসানো আছে ৮ লিটারের ডব্লিউ ১৬ ইঞ্জিন, সঙ্গে চারটি টার্বোচার্জার, শক্তি উৎপাদন করতে পারে ১৬০০ ঘোড়াশক্তি। শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগ তুলতে সময় লাগে মাত্র ২.৪ সেকেন্ড, সর্বোচ্চ গতি প্রযুক্তিগতভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে ঘণ্টায় ৩৮০ কিলোমিটারে।
নিজের গাড়ির সংখ্যা নিয়ে কখনো রাখঢাক করেননি রোনালদো। কতগুলো গাড়ি আছে তাঁর, এই প্রশ্নের জবাবে অকপটেই বলেছেন, ‘অনুমান করতে পারি, ৪০ বা ৪১টা। আমি বুগাত্তির গাড়ি খুব পছন্দ করি, ওগুলো একেবারেই আলাদা রকমের গাড়ি।’
রোনালদোর পুরো সংগ্রহের মূল্য মোটামুটি ৪ কোটি ডলার।
আল নাসর ক্লাব থেকে রোনালদো ও তাঁর সতীর্থদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বিএমডব্লিউ। অন্য কারও জন্য সেটা বড় ব্যাপার হতে পারে। রোনালদোর জন্য? প্রায় ফুটনোট।
মনৎসা এসপি ১ আর দাইতোনা এসপি ৩—দুটোই ফেরারির সীমিত সংস্করণের ‘ইকোনা’ সিরিজের গাড়ি, যেগুলো মারানেলো বিক্রি করে না বললেই চলে, বরং বরাদ্দ দেয় তাদের পছন্দের মানুষদের। এএমজি ওয়ানও এমন এক গাড়ি, যা চাইলেই কোনো শোরুম থেকে কিনে ফেলা যায় না, বাজেট যা-ই হোক না কেন।
রোনালদোর গ্যারেজটা তাই স্রেফ কোনো ধনী মানুষের যা খুশি তা-ই কিনে ফেলার গল্প নয়। এটা রুচির গল্প, বেছে নেওয়ার গল্প।
একজন ধনী মানুষ অনেক দামি জিনিস কিনতে পারেন। কিন্তু সব ধনী মানুষের গ্যারেজ এমন হয় না।