বিড়াল ক্যাথরিনের মৃত্যু, গুলশানের চিকিৎসাকেন্দ্রের মালিককে আইনি নোটিশ

· Prothom Alo

বিড়ালটির নাম ক্যাথরিন। জন্ম ২০২০ সালের ১ মে। জন্মের পর থেকেই বিড়ালটির স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ সব ধরনের চিকিৎসা করানো হচ্ছিল গুলশান ২–এ বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারে। ৫ সেপ্টেম্বর ক্যাথরিন অন্তঃসত্ত্বা কি না, তা পরীক্ষা করাতে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান তার মালিক মো. আবিবুর রহমান। চিকিৎসক ডা. সোলাইমান পরীক্ষা করে জানান, ক্যাথরিন অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভে দুই বা ততোধিক বাচ্চা রয়েছে। স্বাস্থ্যও ভালো। কিন্তু আট দিন পরেই শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয় বিড়ালটির। এরপর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও প্রথম দিকে জরুরি সেবা পাননি বলে অভিযোগ আবিবুরের। তাঁর অভিযোগ, পরে ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের অবহেলায় মারা যায় ক্যাথরিন।

অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা বিড়ালটির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে মালিককে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন মো. আবিবুর রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়। আজ শনিবার আবিবুরের আইনজীবী মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ক্যাথরিনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visit turconews.click for more information.

নোটিশে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটায় বিড়াল ক্যাথরিনকে নিয়ে বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারে যান আবিবুর। সেখানে ডা. সোলাইমান হোসাইন বিড়ালটিকে পরীক্ষা করে র‍্যাবিস ও ফ্লুর টিকা দেন। তিনি জানান, ক্যাথরিন প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভে দুই বা ততোধিক বাচ্চা রয়েছে। বিড়ালটির স্বাস্থ্য ভালো এবং গর্ভধারণের উপযুক্ত। এ সময় তিনি রুচি বাড়ানোর ওষুধ দিয়ে একটি ব্যবস্থাপত্রও লিখে দেন। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ক্যাথরিনের দ্রুত শ্বাস নেওয়ার বিষয়টি আবিবুরের নজরে আসে। তিনি বিএসিসির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যর্থনাকর্মী বৃষ্টির পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি সেবা চেয়ে বিস্তারিত লিখে বার্তা পাঠান। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

নোটিশে আরও বলা হয়, পরে ডা. জুবায়েরকে ভিডিও কলে (৫ মিনিট) ক্যাথরিনের অবস্থা দেখানো হয়। তখন তিনি পরামর্শ দেন, বিড়ালটি বাচ্চা দেবে। তাই পাশে কিছু কাপড় রেখে ঘর অন্ধকার করে দিতে হবে। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে ক্যাথরিনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে ক্যাথরিনের আরেকটি ভিডিও পাঠিয়ে ফোন করেন আবিবুর। তখন ডা. জুবায়ের দ্রুত বিড়ালটিকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসতে বলেন। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ক্যাথরিনকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান তাঁরা।

আবিবুরের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় ১৫ মিনিট তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়। পরে ডা. শিরোপা নামের এক নারী চিকিৎসক ক্যাথরিনকে অক্সিজেন দেন। এতে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছুটা উন্নতি হয়। এরপর একটি ইনজেকশন দেওয়া হলে বিড়ালটি শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ায় এবং আরও সুস্থ দেখাতে থাকে। এরপর ওজন পরিমাপ করেন চিকিৎসক। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে এক্স-রে ও অক্সিজেন দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু অক্সিজেন সিলিন্ডার রেখে চিকিৎসক জুবায়ের অন্য কক্ষে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর চার মিনিট পর ডা. শিরোপা এসে জানান, ক্যাথরিন মারা যাচ্ছে। এ সময় তাঁরা গিয়ে দেখেন ক্যাথরিন মারা গেছে।

‘আমি চাই, আর কেউ যেন এভাবে অবহেলায় প্রিয় বিড়াল না হারান’

ক্যাথরিনের মৃত্যুর বিষয়ে পালক মালিক আবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিড়ালটির গর্ভধারণের বয়স ছিল মাত্র এক মাস পাঁচ দিন। সারা দিন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় নেওয়ার চেষ্টা করেও পাননি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যাথরিনকে অন্ধকার ঘরে রেখে পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় রাতে আবার যোগাযোগ করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় ক্যাথরিন মারা গেছে।

ক্যাথরিনের মৃত্যুর পর দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট নিয়েও অভিযোগ করেছেন আবিবুর। তাঁর ভাষ্য, সনদে ডাক্তারের কোনো সিল, স্বাক্ষর, পরিচয়পত্র নম্বর কিংবা বিড়ালটির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ছিল না।

আবিবুর রহমানের এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারে ফোন করা হলে সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামীকাল তাঁরা এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পরে ফোন করে প্রতিষ্ঠানের মালিকের পুরো নাম ও ফোন নম্বর চাইলে ওই অভ্যর্থনা কর্মী বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ রয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিষয়টি বাংলাদেশ অ্যানিমেল কেয়ার সেন্টারের মালিক লাবণ্যের কাছে তুলে ধরেন আবিবুর। এ সময় লাবণ্য নিজেদের অবহেলার কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক নতুন বলে জানান।

ক্যাথরিনের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে আবিবুর বলেন, ‘আমি চাই, এভাবে যেন অবহেলায় আর কেউ তাঁদের প্রিয় বিড়াল না হারান। আমি বিচার চাই।’

Read full story at source