হান্নান মাসউদের বক্তব্য নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, হাতাহাতিতে জড়াল এনসিপি ও ছাত্রদল

· Prothom Alo

নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপি–সমর্থিত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হান্নান মাসউদ সরকারি দ্বীপ কলেজে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

Visit moryak.biz for more information.

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক ও দলের কর্মী সমাবেশে হাতিয়া বিএনপির নেতা–কর্মীদের নিয়ে কথা বলেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। বিএনপি নেতাদের দাবি, এসব বক্তব্যে তাঁদের দল সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর জেরে আজ হান্নান মাসউদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগদানকে ঘিরে আগে থেকেই তৎপর ছিলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ ভবনের গেটে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা তাঁকে ঘেরাও করেন। এ সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজনের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ নিজেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাঁকে সভার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে সভা চলাকালে বাইরে এনসিপি কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীদের আবার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে হান্নান মাসউদ সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে এসে আবার তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন, আজাদসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যকে তাঁর বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য সভার দিকে যাওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিবেশ শান্ত করি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের উপস্থিতিতে গেটে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সংসদ সদস্যকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সম্পূর্ণ বিনা কারণে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা এনসিপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এমপি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাঁর এই আচরণ ও উগ্রতার কারণেই ক্ষুব্ধ নেতা–কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, এখানে দলের কোনো পূর্বনির্দেশনা ছিল না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাচ্ছিলাম। পথে কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির ক্যাডাররা হট্টগোল শুরু করে। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।’ এ সময় তাদের একটি ঘুষি তাঁর ঘাড়ে লেগেছে বলেও দাবি করেন হান্নান মাসউদ।

Read full story at source