রেফ্রিজারেটরের যে যত্নগুলো নেওয়া প্রয়োজন
· Prothom Alo

রেফ্রিজারেটর আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। রান্নাঘরের এই যন্ত্রটি অন্য অনেক গৃহস্থালি পণ্যের মতো বিশ্রাম নেয় না; খাবার সতেজ ও নিরাপদ রাখতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামান্য কিছু যত্ন শুধু এর কার্যকারিতাই নয়, দীর্ঘদিন ভালো রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ।
Visit syntagm.co.za for more information.
সাধারণত ফ্রিজে কিছু পড়ে ছড়িয়ে গেলে বা দুর্গন্ধ তৈরি হলে আমরা পরিষ্কার করার কথা ভাবি। কিন্তু এর ভেতরের তাক, ড্রয়ার ও দরজার অংশে নিয়মিতই সামান্য আর্দ্রতা এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ জমতে পারে। এসব থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে দুর্গন্ধ।
তাই ফ্রিজে বড় কোনো ময়লা জমার অপেক্ষা না করে মাঝেমধ্যে তাক ও ড্রয়ার মুছে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো অভ্যাস। এতে ভেতরের পরিবেশও থাকে সতেজ।
বেশি খাবার রাখাও হতে পারে সমস্যা
ফ্রিজের প্রতিটি তাক অতিরিক্ত খাবারে ভর্তি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে কোনো কোনো খাবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে যেতে পারে, আবার কিছু খাবার অতিরিক্ত ঠান্ডায় জমেও যেতে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে খাবারের সতেজতার ওপর। কয়েক দিন ভালো থাকার কথা থাকা কোনো খাবারও তাপমাত্রার ভারসাম্য ঠিক না থাকলে দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করতে পারে। তাই ফ্রিজে খাবার রাখার সময় কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখা জরুরি।
আধুনিক প্রযুক্তিও দিচ্ছে বাড়তি সুবিধা
বর্তমানের রেফ্রিজারেটরগুলোতে এমন কিছু প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে, যা খাবার সংরক্ষণের পরিবেশ আরও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। যেমন, স্যামসাংয়ের ৭০০ লিটারের সাইড-বাই-সাইড রেফ্রিজারেটর মডেল RS72R5011B4-এর দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা। এতে রয়েছে ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসর, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের কার্যক্ষমতা সামঞ্জস্য করে। এর ফলে তাপমাত্রা স্থির রাখা এবং ওঠানামা কমানো সহজ হয়।
এই রেফ্রিজারেটরে চারপাশে সমানভাবে ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এক কোণ থেকে অন্য কোণ পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে সমান ঠান্ডা বাতাস পৌঁছায়। তাক কিছুটা বেশি ভরা থাকলেও এতে খাবারের তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।
এ ছাড়া রয়েছে দুর্গন্ধ দূর করার ছাঁকনি। এটি ফ্রিজের ভেতরে দুর্গন্ধ জমতে বাধা দিতে সাহায্য করে, ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ভেতরের পরিবেশও দীর্ঘ সময় সতেজ রাখা যায়।
ছোট কিছু অভ্যাস, বড় পার্থক্য
আধুনিক প্রযুক্তি ফ্রিজের ব্যবহারকে সহজ করলেও নিয়মিত যত্নের বিকল্প নেই। দরজার রাবারের সিল ঠিকভাবে আটকে আছে কি না, সেটি নিয়মিত দেখে নেওয়া দরকার। বরফ অতিরিক্ত জমে যাওয়ার আগেই তা সরিয়ে ফেলাও জরুরি।
একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঠান্ডা তাপমাত্রা নির্ধারণ না করে ফ্রিজের দুই পাশ ও পেছনে কয়েক ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখলে এর কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে সুবিধা হয়।
সবশেষে, রেফ্রিজারেটর শুধু একটি যন্ত্র নয়; এটি প্রতিদিন আমাদের খাবার সংরক্ষণ ও নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার করা, অতিরিক্ত খাবার না রাখা এবং ছোটখাটো কিছু বিষয় নজরে রাখার অভ্যাসই পারে এর আয়ু বাড়াতে। যত্নটা সামান্য, কিন্তু তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি।