‘ভবিষ্যতে এমন কিছু করো, যেন জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়েও বড় অর্জন হয়’

· Prothom Alo

‘তোমরা সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছ, এটা দারুণ অর্জন। তবে তোমাদের অনেক বন্ধু কিন্তু জিপিএ-৫ পায়নি। তারা আজ এখানে আসতে পারেনি। ভবিষ্যতে তোমরা এমন কিছু করো, যেন জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়েও বড় কিছু অর্জন হয়। এমন কিছু, যাতে তোমরা আরও বড় কিছু হতে পারো, সমাজকে বদলে দিতে পারো।’

Visit rouesnews.click for more information.

রাঙামাটিতে ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। আজ শনিবার সকালে রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় জমায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলছে, কেউ ব্যস্ত আড্ডায়।

অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই দেখা যায়-‘এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’। বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন ছিল সেখানে। পাশেই ছিল, ৩৬০ ডিগ্রি ফটো বুথ ও ফটো কর্নার। সেখানে শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের একজন রাঙামাটি শহরের মোনঘর আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া বিজয় চাকমা। সে জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোনঘরে ভর্তি হয়েছিল সে। মা–বাবাকে ছেড়ে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনার সময়ই জেদ চাপে ভালো ফল করবে। এসএসসিতে ভালো ফল করতে পেরে বেশ খুশি সে। বিজয় চাকমা বলে, ‘আমার স্বপ্ন বড় হয়ে প্রকৌশলী হওয়া। অনুষ্ঠানে এসে গুণীজনদের অনেক কথা শুনেছি, যা আমার স্বপ্ন পূরণের প্রেরণা জোগাবে।’

লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তাসমিয়া তাবাসসুমও অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। সে বলে, ‘দীর্ঘ ১০ বছরের স্কুলজীবন পার করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন পরিচয় পেয়েছি। ১০ আগস্ট যখন ফল দেখেছিলাম, খুবই ভালো লেগেছিল। আজ এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরেও খুবই আনন্দিত।’

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সরিৎ কুমার চাকমা বলেন, ‘জীবনের প্রথম চ্যালেঞ্জ এসএসসি পরীক্ষায় তোমরা মেধা ও কৃতিত্বের সঙ্গে সফল হয়েছ। এখন ঠিকভাবে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় শেখার মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে নিজেদের সাবধান রাখতে হবে।’

রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির আলম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে রাঙামাটির মেধাবী মুখগুলোর সমাবেশ ঘটেছে দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক। তবে এখন সময় নষ্ট না করে দ্রুত বই সংগ্রহ করে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। পড়ালেখার জন্য আঠার মতো লেগে থাকতে হবে, তবেই আসল সাফল্য আসবে।’

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা কৃতী শিক্ষার্থীরা

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর রাঙামাটি জেলার প্রতিনিধি মিকেল চাকমা। এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রথম আলো রাঙামাটি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক বাবুল মারমা। অনুষ্ঠানে আসা অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানের অর্জন নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন।

অভিভাবকদের একজন নমিতা চাকমা বলেন, ‘জিপিএ-৫ পাওয়া কিন্তু শেষ কথা নয়, সামনে কঠিন পথচলা রয়েছে। আমাদের সন্তানেরা নিজেদের পড়ালেখা অব্যাহত রেখে দেশের জন্য ভূমিকা রাখবে, এটাই আমরা চাই।’

এবারের আয়োজনের ‘পাওয়ার্ড বাই’ বিকাশ। সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

Read full story at source