কর্মকর্তা বললেন, ‘ঘরে মশার জন্য দাঁড়ানো যায় না’, বাসিন্দার উত্তর ‘মিউনিসিপ্যালিটি করবে, আমরা করবনি?’
· Prothom Alo
ছোট একটি ঘর। ঘরের স্যাঁতসেঁতে সীমানাদেয়াল ঘেঁষে জমে আছে পানি। সেখানে জন্ম নিয়েছে এডিস মশার লার্ভা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান চালাতে গিয়ে সেই লার্ভা খুঁজে পান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশকনিধনকর্মীরা।
Visit newsbetting.bond for more information.
ওই ঘর থেকে এক বৃদ্ধ ও তাঁর মেয়ে বেরিয়ে আসেন। ঘরের বাইরে জমে থাকা পানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে এডিস মশার লার্ভা দেখা যায়।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ওই বাড়ির আশপাশের পরিস্থিতি দেখিয়ে বৃদ্ধকে বলেন, ‘আপনি দেখেন, আপনার ঘরে মশার জন্য দাঁড়ানো যাচ্ছে না। আপনার বাড়ির সঙ্গে একদম ছোট একটা জায়গায় পানি জমে তাতে মশার লার্ভা জন্মেছে।’ তিনি বোঝান, বাড়ির পাশে জন্ম নেওয়া মশা প্রথমে বাড়ির মানুষকেই কামড়াবে। তখন তাঁদেরই হাসপাতালে যেতে হবে। পরিস্থিতি খারাপ হলে রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
এসব শুনে বৃদ্ধ উত্তর দেন, ‘আমি আইজ ২৬ বছর (সেখানে বাস করছেন), কোনো আইসিইউর ভিতর যাই নাই।’ তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার, এখানে তো মশার উৎপাদন বেশি। কারণ, এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা নাই।’
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানতে চান, তাহলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে কে? বৃদ্ধ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এটা মিউনিসিপ্যালিটি করবে, আমরা করবনি?’
১২ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসির ‘একশোতে একশো’ কর্মসূচি শুরু হয়। আজ ছিল কর্মসূচির অষ্টম দিন। ডিএনসিসি এলাকায় চিহ্নিত ১০০টি হটস্পটে এই কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল বা উৎসস্থল শতভাগ ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েছে ডিএনসিসি।
ঘরের পাশের জায়গাটিও সিটি করপোরেশন পরিষ্কার করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই বৃদ্ধ সাফ জবাব দেন, ‘এটাও সরকারি, হাউজিংয়ে করবে, আমি করবনি।’
আজ শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়ার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিউ কলোনি আবাসিক এলাকায় ডিএনসিসির ‘একশোতে একশো’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় অভিযানে গিয়ে এমন ঘটনা দেখা যায়।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য ডিএনসিসি এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে লালমাটিয়া নিউ কলোনি মাঠে জড়ো হন ডিএনসিসির মশকনিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কুইক রেসপন্স দলের সদস্য, রোভার স্কাউট ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা। সকাল নয়টার দিকে তাঁদের আটটি দলে ভাগ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পাঠানো হয়।
ওয়াসার মিটার বাক্স: চামচে তুলে আনা পানিতে কিলবিল করছিল মশার লার্ভাঘরের কোণে প্লেটে জমে থাকা পানিতে জন্মেছে মশার লার্ভা। রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিউ কলোনি আবাসিক এলাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ভবনের পেছনে বেশি ঝুঁকি
লালমাটিয়ার নিউ কলোনিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন রয়েছে। ভবনগুলোর মাঝের খালি জায়গা এবং কোনো কোনো ভবনের পেছনে আধা পাকা ঘরে থাকেন সেখানকার কর্মচারীরা।
ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যেসব ভবনে থাকেন, সেসব বাসার ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে সমস্যা বেশি ভবনগুলোর পেছনে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বাড়ির পেছনে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ময়লা। এমন অনেক জায়গা পেয়েছি, যেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। এখানেও বেশ কিছু জায়গায় আমরা এডিস মশার লার্ভা পেয়েছি।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা। সাধারণ মানুষকে শেখানো—কোথায় কোথায় এডিস মশা বংশবিস্তার করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব জায়গা যাতে তৈরি না হয় এবং লার্ভা যাতে জন্মাতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা।বিশেষ করে দুই ভবনের মাঝখানে ভবনগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক বা তত্ত্বাবধায়কদের ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরে প্রচুর এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানান ডিএনসিসির এই কর্মকর্তা।
ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা। সাধারণ মানুষকে শেখানো—কোথায় কোথায় এডিস মশা বংশবিস্তার করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব জায়গা যাতে তৈরি না হয় এবং লার্ভা যাতে জন্মাতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা।’
খাঁচায় মশা আটকে ওষুধের ধোঁয়া, ২৪ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল ফল১০০ হটস্পটে ১০০ দিনের কর্মসূচি
১২ সেপ্টেম্বর ডিএনসিসির ‘একশোতে একশো’ কর্মসূচি শুরু হয়। আজ ছিল কর্মসূচির অষ্টম দিন। ডিএনসিসি এলাকায় চিহ্নিত ১০০টি হটস্পটে এই কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ডেঙ্গু ঠেকাতে ঢাকা উত্তর সিটির ‘একশোতে একশো’ কর্মসূচিতে অংশ নেন মশকনিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা। রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিউ কলোনি আবাসিক এলাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬এই কর্মসূচির আওতায় ১০০ দিনে ১০০টি হটস্পটে প্রতিদিন ১০০ জন করে কর্মী নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন অভিযান চালানো হবে। এর মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল বা উৎসস্থল শতভাগ ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েছে ডিএনসিসি।
ওষুধ ধার করে মশা মারছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি